খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৬ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর অভিযোগ করেছেন যে কিছু ব্যক্তি সুপরিকল্পিতভাবে মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথী ও তার ছেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। তিনি সোমবার (২৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাসে এ কথা জানান।
নুরুল হক নুরের দাবি, ‘জনকণ্ঠ’ দখলের মতো করে ‘মাই টিভি’ দখলের উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি যোগসাজশে প্রশাসনকে ব্যবহার করে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে তারা নগদ ৫ কোটি টাকা বা শেয়ার লিখে নেওয়ার জন্য দেনদরবার করেছিল, কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় তারা ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল মবের মাধ্যমে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের গ্রেপ্তার করিয়েছে।
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর প্রশ্ন তোলেন, তৌহিদ আফ্রিদি ও তার বাবাকে যাত্রাবাড়ীর ‘ছাত্র হত্যা’ মামলায় এক বছর পর কেন আসামি করে গ্রেপ্তার করা হলো। তিনি বলেন, মামলার বাদী কি জানেন কাকে কাকে আসামি করা হয়েছে? তৌহিদ আফ্রিদি বা তার বাবা ‘ছাত্র হত্যা’ করেছে, তা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। নুর বলেন, আফ্রিদি যদি সরকারের পক্ষে কিছু করে থাকে, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করা যেত। কিন্তু তার বদলে একটি ভিত্তিহীন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হলো। তিনি মনে করেন, এই ধরনের চাপ থেকে প্রশাসন মাঝে মাঝে বিচারহীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
নুর আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই গ্রেপ্তার দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জন্য একটি রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, এর ফলে ভবিষ্যতে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পিছপা হতে পারে। তিনি মনে করেন, এসব ভুল পদক্ষেপ প্রকারান্তে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার পথ প্রশস্ত করবে।
নুরুল হক নুর আরও বলেন, ‘জনকণ্ঠ’ দখলের মতো ‘মাই টিভি’ দখলের পেছনে যারা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
গত ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে সিআইডি তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে এবং সোমবার (২৬ আগস্ট) আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, যার ফলে ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে আসাদুল হক বাবু নিহত হন। এই হত্যা মামলায় বাবু’র বাবা শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন, যার মধ্যে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এবং তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথী ২২ নম্বর আসামি। গত ১৭ আগস্ট নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন