খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার দ্বিতীয়তলার নারী ব্যারাকে ঢুকে এক নারী পুলিশ সদস্যকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই থানায় কর্মরত সাফিউর রহমান নামে আরেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।
এমনকি ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে পাঁচ মাস ধরে থানা ব্যারাকেই ওই নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। তবে এর আগে ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত কয়েকদিন ধরে ঘুরেও থানায় মামলা করতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ভুক্তভোগী।
অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল সাফিউর রহমান গত রমজানের ঈদের পরের দিন ভুক্তভোগীকে ব্যারাকের রুমে ঢুকে ধর্ষণ করেন। সে সময় ওই নারী পুলিশ সদস্য রুমে একা ছিলেন। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে আরও একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তেভোগী।
এ বিষয়ে চলতি মাসে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিনকে অভিযোগ দেন নারী কনস্টেবল। তবে শুরুতে কোনো ব্যবস্থা নেননি ওই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পুলিশ পরিদর্শক আল আমিনের বাড়ি অভিযুক্ত সাফিউরের এলাকায় হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। তিনি অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী উভয় পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেন এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। বর্তমানে এ ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ পুলিশ একটি পেশাদার ও সুশৃঙ্খল বাহিনী। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বসহকারে দেখা হয় এবং তদন্তসাপেক্ষে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।