খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৬ বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক মাস আগে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। দলের বর্তমান প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি-কে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আনচেলত্তিও এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তি আনুষ্ঠানিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত গ্রীষ্মে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তির ইউরোপ ফেরার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে ব্রাজিল ফেডারেশনের পদক্ষেপ সেই আলোচনাকে স্থগিত করেছে। ৬৬ বছর বয়সী এই কোচ ইতিমধ্যেই সিবিএফের সঙ্গে মৌখিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
২০৩০ বিশ্বকাপ হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে, যেখানে গ্রুপ পর্বের কয়েকটি ম্যাচ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত হবে। আনচেলত্তি ব্রাজিলের ইতিহাসে বিদেশি কোচ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্ব নেওয়া প্রথম ব্যক্তি।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দায়িত্বকাল | ২০২৬–২০৩০ বিশ্বকাপ |
| বার্ষিক বেতন | প্রায় ১ মিলিয়ন ইউরো |
| পারফরম্যান্স বোনাস | পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে |
| কাজের জায়গা | রিও ডি জেনেইরো ও ভ্যাঙ্কুভার (পরিবারের সঙ্গে সময় ভাগ) |
নতুন চুক্তি আনুষ্ঠানিক হলে, আনচেলত্তি শুধু খেলার কৌশলই নয়, দলের সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সিবিএফ সভাপতি এদনালদো রদ্রিগেস মনে করেন, বিশ্বকাপের পর যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তা কমানোর জন্য এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত বছর ব্রাজিলের অবস্থা খুব ভালো ছিল না। কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দল ছিল চতুর্থ স্থানে। সাবেক কোচ দোরিভাল জুনিয়র বরখাস্ত হওয়ার পর আত্মবিশ্বাস হ্রাস পেয়েছিল। আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম আট ম্যাচে চারটি জয়, দুটি ড্র এবং দুটি হারে দল স্থিতিশীল হচ্ছে। ‘কারলেত্তো ইফেক্ট’ স্পষ্ট, বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো ও মিলিতাওর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক দলের মনোবল বাড়িয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হওয়া আসরে ব্রাজিল ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলবে, যা কোচ এবং দলের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত।
ব্রাজিলের লক্ষ্য ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা। সর্বশেষ তারা জিতেছিল ২০০২ সালে। আনচেলত্তির নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রূপায়ণ করলে ২০৩০ বিশ্বকাপেও দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। কোচের মনোযোগ এখন পুরোপুরি ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে নিবদ্ধ।
এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে: ব্রাজিল শুধু একটি টুর্নামেন্টের জন্য নয়, ভবিষ্যতের দীর্ঘ পরিকল্পনার জন্যও প্রস্তুত।