খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে আজ (রবিবার, ৭ জুলাই) শুরু হয়েছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকস-এর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্যনীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা প্রধান এজেন্ডা হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের সম্মেলনে জোটের গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য—চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না। তবে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং প্রতিনিধিত্ব করছেন বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে, এবং পুতিন ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হচ্ছেন সম্মেলনে।
ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আমদানি শুল্ক আরোপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা নিয়ে সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জোট। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একের পর এক মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ, গত শুক্রবার বাণিজ্য অংশীদারদের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে—৯ জুলাই থেকে নতুন শুল্কহার কার্যকর হবে।
যদিও চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবুও বিশ্লেষকেরা এটিকে ওয়াশিংটনের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখছেন।
ব্রিকসের নতুন সদস্য ইরান সম্মেলনে একটি কঠোর ভাষার ঘোষণা চাইছে, বিশেষ করে গাজা এবং সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে ঘিরে। ইরান চাইছে, কেবল ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান নয়, বরং সংঘাতে যুক্ত পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থানও গ্রহণ করুক জোটটি। তবে বাকি সদস্যদের মধ্যে এই ইস্যুতে একমত হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিজে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটি এখনো পুনর্গঠনের চেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ১২ বছরের মধ্যে এবারই প্রথমবারের মতো ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তাঁর অনুপস্থিতি এই সম্মেলনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব কিছুটা হ্রাস করতে পারে। ব্রিকসকে পশ্চিমা জোটের প্রভাব মোকাবিলায় চীনের নেতৃত্বাধীন একটি শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এবার সি-এর অনুপস্থিতি সেই ধারণায় আংশিক ছেদ ফেলতে পারে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ক্ষেত্রেও একই রকম পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার কারণে তিনি বাইরে ভ্রমণ করতে পারছেন না। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, তিনি ভার্চ্যুয়ালি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা ১১: ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই দেশগুলো বৈশ্বিক জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি এবং বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
তবে বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি, রাজনৈতিক মতপার্থক্য, ও আঞ্চলিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব—এই জোটকে একক কণ্ঠস্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ব্রিকসের মূল বার্তা হবে একটি “বিকল্প বিশ্বব্যবস্থা”-র পক্ষে দাঁড়ানো, যেখানে পশ্চিমা অর্থনৈতিক প্রভাবের বাইরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সদস্যদেশগুলোর নিজস্ব দ্বন্দ্ব ও কৌশলগত স্বার্থের কারণে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নির্ধারণ সব সময় সম্ভব হয় না।
সূত্র: এএফপি
খবরওয়ালা/আরডি