খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে মাঘ ১৪৩২ | ১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাত বর্তমানে একটি জটিল সংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে ঋণখাতের অপ্রদত্ত বা নন-পারফর্মিং লোন (NPL) দেশের অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট ঋণের ৩৫ শতাংশ অপ্রদত্ত অবস্থায় রয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতি ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় এই সংকটকে আরও জটিল করেছে।
বৃহত্তর সমস্যাটি মূলত আমাদের ব্যাংক-কেন্দ্রিক অর্থায়ন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে উদ্ভূত। সমসাময়িক বিশ্বে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য সরকারি ও কর্পোরেট বন্ড মার্কেট এবং পুঁজিবাজারকে অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বন্ড মার্কেট অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও, ভারত, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো গত দুই দশকে শক্তিশালী স্থানীয় বন্ড বাজার গড়ে তুলেছে, যা তাদের অবকাঠামো ও শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশের বন্ড বাজার এখনও অপেক্ষাকৃত ক্ষীণ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত দেশের বন্ড বাজারের আকার প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রতিবেশী ও সমকক্ষ দেশের তুলনায় অনেক ছোট। বাজারের সীমাবদ্ধতার মূল কারণগুলো নিম্নরূপ:
| সীমাবদ্ধতা | ব্যাখ্যা | প্রভাব |
|---|---|---|
| জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া | অনুমোদন, ক্রেডিট রেটিং, ট্রাস্টি, লিস্টিং সব মিলে সময় ও খরচ বাড়ায় | নতুন ইস্যুয়ারের আগ্রহ কমে যায় |
| বিনিয়োগকারীর আস্থা অভাব | পূর্বের অমর্যাদাকর ঋণ পরিশোধের অভিযোগ | বাজারে নেতিবাচক সিগনাল, অবিশ্বাস বৃদ্ধি |
| Institutional investor-এর অভাব | পেনশন ফান্ড, বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ডের অবকাঠামো দুর্বল | দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কমে যায় |
| সরকারি সেভিংস সার্টিফিকেটের উচ্চ সুদ | বিনিয়োগকারীরা বেশি সুদযুক্ত বিকল্প বেছে নেয় | বন্ডে বিনিয়োগ সীমিত থাকে |
বাংলাদেশকে ব্যাংক-কেন্দ্রিক নীতি থেকে সরিয়ে একটি বৈচিত্র্যময় অর্থায়ন কাঠামোর দিকে অগ্রসর হতে হবে। এজন্য প্রক্রিয়া সরল ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করতে হবে, কঠোর নিয়ন্ত্রক বিধি কার্যকর করতে হবে এবং পেনশন ও বীমা খাতের সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি, সেভিংস সার্টিফিকেটের সুদের হার বাজারভিত্তিক করা গেলে বন্ডে বিনিয়োগ বাড়বে।
সাফল্যের সম্ভাবনা আছে। নতুন ধারণা যেমন: সুকুক, গ্রীন বন্ড ও সামাজিক বন্ড বর্তমানে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈশ্বিক এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ গ্রীন বন্ড বাজার তৈরি করলে দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।
যদি পরবর্তী নির্বাচিত সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে একটি শক্তিশালী বন্ড বাজার গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।