খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে মাঘ ১৪৩২ | ৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার ওপর পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনসংলগ্ন তারাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন নুর আলম মুন্সি (৪০)। তিনি ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেনের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরিহিত একাধিক হামলাকারী দ্রুতগতিতে এসে নুর আলমের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কোপ দিয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় নুর আলমকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথায় গভীর জখম হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
হাসপাতালে শয্যাশায়ী নুর আলম জানান, তিনি নির্বাচনী হ্যান্ডবিল সংগ্রহ করতে মালিগ্রাম কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে একটি ফোনকল এলে মোটরসাইকেল থামিয়ে কথা বলার সময় হামলাকারীরা এসে তাকে কুপিয়ে দেয়। হামলার সময় তারা তাকে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার হুমকি দেয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে হামলাকারীরা হেলমেট পরা থাকায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাঙ্গা পৌর আমির ডা. এনায়েত হোসেন বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা। নির্বাচনী মাঠে আতঙ্ক সৃষ্টি করে প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করাই হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, হামলার খবর পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করা হবে। এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান, যাতে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা নিরাপদে মতপ্রকাশ ও প্রচারণা চালাতে পারেন।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আহতের নাম | নুর আলম মুন্সি (৪০) |
| পদবি | আজিমনগর ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি (জামায়াত) |
| স্থান | তারাইল বাসস্ট্যান্ড, ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে সার্ভিস লেন |
| সময় ও তারিখ | ৩ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১১:৩০ টা (প্রায়) |
| হামলার ধরন | হেলমেট পরা দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলা |
| বর্তমান অবস্থা | হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| পুলিশি অবস্থান | অভিযোগ পেলে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা |
এই ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনী সময়ে সহিংসতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।