খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সার্বজনীন বীমা কভারেজ (Universal Insurance Coverage) নিশ্চিত করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার। এই লক্ষ্য পূরণের পথে ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট (ফেব্রুয়ারি) হতে পারে একটি মাইলফলক। বাজেট-পূর্ব নীতিনির্ধারক ও শিল্প-সংশ্লিষ্ট মহলে জোরালো আলোচনা চলছে যে, এবারের বাজেটে গ্রামীণ নারী ও কৃষকদের সুরক্ষায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন ও বিশেষ বরাদ্দ আসতে পারে। মূলত শহরকেন্দ্রিক বীমা ধারণাকে গ্রামীণ জনপদে ছড়িয়ে দেওয়াই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
জন ধন অ্যাকাউন্ট: বীমা বিস্তারের মূল হাতিয়ার
ভারত সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার’ (PMJDY) বিশাল সাফল্যকে বীমা প্রসারের ক্ষেত্রে ‘ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতে ৫৫ কোটিরও বেশি জন ধন অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যার সিংহভাগই গ্রামীণ নারী গ্রাহকদের। নতুন বাজেটে জন ধন অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই সরাসরি একটি বিশেষ বীমা পণ্যকে সংযুক্ত করার প্রস্তাব আসতে পারে। এর ফলে গ্রামীণ নারীদের আলাদা করে কোনো নথিপত্র জমা দেওয়া বা ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এটি নিবন্ধনের জটিলতা কমিয়ে দ্রুততম সময়ে কোটি কোটি মানুষকে বীমার আওতায় নিয়ে আসবে।
পরিকল্পিত এই বীমা ব্যবস্থার সম্ভাব্য কাঠামো ও লক্ষ্যসমূহ নিচে সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ ও লক্ষ্যসমূহ |
|---|---|
| মূল লক্ষ্য | ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০% বীমা কভারেজ অর্জন। |
| টার্গেট গ্রুপ | গ্রামীণ নারী, প্রান্তিক কৃষক এবং জন ধন অ্যাকাউন্টধারী। |
| প্ল্যাটফর্ম | প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা (PMJDY) এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ। |
| সুরক্ষার ধরণ | স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ঘটনা, আয়হানি এবং জলবায়ু ঝুঁকি। |
| প্রযুক্তিগত সংযোগ | ডিজিটাল অটো-ডেবিট এবং সহজতর দাবি নিষ্পত্তি (Claim Settlement)। |
| কৃষি খাত | জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিপূরণ ও ফসল বীমার আওতা বৃদ্ধি। |
গ্রামীণ নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বলয়
গ্রামীণ নারীদের জন্য আলাদা বীমা পণ্য চালুর পেছনে মূল কারণ হলো পারিবারিক স্থিতিশীলতা। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যু বা দুর্ঘটনা অনেক সময় একটি মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারকে দারিদ্র্যের চরম সীমায় ঠেলে দেয়। বিশেষ করে শিক্ষা ও পুষ্টির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। জন ধন-সংযুক্ত বীমা চালু হলে তা অনিশ্চয়তার মুখে পরিবারের জন্য একটি কার্যকর নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া প্রিমিয়াম পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে ডিজিটাল পেমেন্ট মডেল বা ক্ষুদ্র সঞ্চয় থেকে স্বয়ংক্রিয় অর্থ কাটার ব্যবস্থা বাজেটে অগ্রাধিকার পেতে পারে।
জলবায়ু ঝুঁকি ও কৃষক সুরক্ষা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভারতের কৃষি খাতকে বিপর্যস্ত করছে। ২০২৬ সালের বাজেটে ফসল বীমা ও জলবায়ু ঝুঁকি বীমার কাঠামো শক্তিশালী করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্যোগের সময় কৃষকের হাতে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য বীমা কভারেজের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা জরুরি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণ এবং স্বচ্ছতার সাথে দাবি নিষ্পত্তির বিষয়টি বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ পেতে পারে।
উপসংহার ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
২০২৬ সালের ‘ইন্স্যুরেন্স পুশ’ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের সূক্ষ্মতার ওপর। প্রিমিয়াম কতটা সাশ্রয়ী হয় এবং দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কতটা হয়রানিভুক্ত থাকে—সেটাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। যদি জন ধন প্ল্যাটফর্মকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে গ্রামীণ নারী ও কৃষকদের একসূত্রে গাঁথা যায়, তবে ২০৪৭ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা ভারতের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। বাজেট ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে এই স্বপ্নের প্রকল্পগুলো কতটা বাস্তবসম্মত রূপ পেতে যাচ্ছে।