খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙার তবলছড়ি সীমান্তের ওপারে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরায় পাওয়া গেছে মো. হানিফ মিয়া (৪০) নামে এক বাংলাদেশির হাত-পা বাঁধা মরদেহ। নিহত হানিফ ছিলেন তবলছড়ি ইউনিয়নের বং পাড়ার বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন গ্রাম পুলিশের সদস্য।
পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাতে এক ফোনকলে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন হানিফ। শুক্রবার (২০ জুন) একটি ভিডিওতে তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেলে পরিবার তাকে শনাক্ত করে।
হানিফের স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, ‘রাতের খাবার সময় একটি ফোন পেয়ে হানিফ বাইরে যায়। তখন তিনি বলেছিলেন, বেলালসহ দুইজন তাকে ডেকেছেন। এরপর আর ফেরেননি। আমি আমার স্বামীর লাশ ফেরত চাই, হত্যাকারীদের বিচার চাই।’
তবলছড়ি ইউপি সচিব মোহাম্মদ ওসমান আলী জানান, ভিডিওতে শর্ট প্যান্ট পরিহিত, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ বলছে, হানিফসহ পাঁচজন অবৈধভাবে ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করলে বিএসএফ ধাওয়া দেয়। চারজন পালিয়ে আসলেও হানিফ ধরা পড়েন এবং পরে মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, ভিডিও দেখে মনে হচ্ছে হানিফকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহটি এখনো ভারতের সীমান্তের ভেতরে রয়েছে।
এ বিষয়ে ২৩ বিজিবি জামিনিপাড়া ব্যাটালিয়নের মেজর মাসুদ রানা বলেন, ‘ভারতের সীমান্তে মরদেহ পড়ে থাকার খবর শুনেছি। তবে এখনো কেউ বিজিবিকে লিখিত বা মৌখিকভাবে কিছু জানায়নি। বিএসএফ থেকেও কোনো বার্তা আসেনি।’
এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হানিফের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত মরদেহ ফিরিয়ে এনে যথাযথ বিচার দাবি করেছেন।
খবরওয়ালা/আরডি