খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের নতুন অর্থবছর ২০২৬–২৭-এর প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য সহায়তা বা অনুদান বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। বাজেট নথি অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশ পাবে ৬০ কোটি ভারতীয় রুপি, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ বেশি। তবে বরাদ্দ বৃদ্ধির এই চিত্র সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই ভারতের কাছ থেকে সবচেয়ে কম পরিমাণ সহায়তা পাচ্ছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেটের ব্যাখ্যামূলক নথিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (মিনিস্ট্রি অব এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার্স) চাহিদা ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে এই বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কূটনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক কৌশল ও প্রকল্পভিত্তিক সহযোগিতার প্রয়োজন অনুযায়ীই দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জন্য সহায়তার অঙ্ক নির্ধারিত হয়েছে।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বছরের মূল বাজেট প্রস্তাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি অনুদানের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আর্থিক বাস্তবতা ও অগ্রাধিকার পুনর্মূল্যায়নের কারণে সংশোধিত বাজেটে সেই অঙ্ক কমিয়ে সাড়ে ৩৪ কোটি রুপিতে নামিয়ে আনা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন অর্থবছরে ৬০ কোটি রুপি বরাদ্দকে একধরনের পুনরুদ্ধার বা আংশিক বাড়তি গুরুত্ব হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারতের বাজেট নথি অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সহায়তা পাচ্ছে ভুটান। দেশটির জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ২৮৮ কোটি ৫৬ লাখ রুপি, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৬৯ কোটি রুপি অনুদান এবং ৫২০ কোটি রুপি ঋণ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নেপাল, যাকে দেওয়া হচ্ছে ৮০০ কোটি রুপি। তৃতীয় স্থানে থাকা মালদ্বীপ পাচ্ছে ৫৫০ কোটি রুপি, যদিও গত অর্থবছরের তুলনায় তাদের বরাদ্দ কিছুটা কমেছে। এরপর শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও আফগানিস্তান যথাক্রমে ৪০০ কোটি, ৩০০ কোটি ও ১৫০ কোটি রুপি সহায়তা পাচ্ছে।
নিচের টেবিলে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের জন্য ভারতের প্রস্তাবিত সহায়তার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| দেশ | ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত সহায়তা (কোটি রুপি) | আগের অর্থবছরের বরাদ্দ (কোটি রুপি) |
|---|---|---|
| ভুটান | ২,২৮৮.৫৬ | ১,৯৫০ |
| নেপাল | ৮০০ | তথ্য নেই |
| মালদ্বীপ | ৫৫০ | ৬২৫ |
| শ্রীলঙ্কা | ৪০০ | ৩০০ |
| মিয়ানমার | ৩০০ | ২০০ |
| আফগানিস্তান | ১৫০ | ১০০ |
| বাংলাদেশ | ৬০ | ৩৪.৪৮ |
বিশ্লেষকদের মতে, অনুদান বা সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বড় ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও ঋণ ব্যবস্থাপনার প্রেক্ষাপটে অনেক দেশই এখন সরাসরি অনুদানের বদলে কঠোর শর্তে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী। ভারতও এই প্রবণতার বাইরে নয়। ফলে গত এক দশকে বাংলাদেশকে ভারতের সহায়তার বড় অংশ এসেছে ‘লাইন অব ক্রেডিট’ বা এলওসি ব্যবস্থার আওতায়, যা মূলত অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়যোগ্য ঋণ।
প্রথা অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ নতুন বাজেট পেশ করেন। এবারের বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৫৩ দশমিক ৫০ লাখ কোটি রুপি, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ভারতের অর্থবছর শুরু হয় ১ এপ্রিল থেকে এবং শেষ হয় পরবর্তী বছরের ৩১ মার্চ। এই বাজেটের মাধ্যমে ভারত আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকার বজায় রাখার পাশাপাশি নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।