খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে পাকিস্তানের ১১ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৭৮ জন। একইসঙ্গে ভারতের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক।
মঙ্গলবার (১৩ মে) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন এই খবর প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর এক বন্দুকধারীর হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ভারত ওই হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করে। এরপর ৬ মে মধ্যরাতে পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। এই অভিযানে বহু বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। পাল্টা জবাবে পাকিস্তানও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তবে শেষপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শনিবার দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (১০ মে) জানান, ভারত ও পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের হামলায় নিহত ৪০ বেসামরিক নাগরিকের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন নারী ও ১৫ জন শিশু। আহত হয়েছেন আরও ১২১ জন। পাকিস্তানের নিহত ১১ সেনা সদস্যের মধ্যে ৬ জন সেনাবাহিনীর এবং ৫ জন বিমানবাহিনীর।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংঘাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ছয় ও বিমানবাহিনীর পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিহত সদস্যরা হলেন নায়েক আবদুল রেহমান, ল্যান্সনায়েক দিলাওয়ার খান, ল্যান্সনায়েক ইকরামুল্লাহ, নায়েক ওয়াকার খালিদ, সিপাহি মুহাম্মদ আদিল আকবর ও সিপাহি নিসার।
বিমানবাহিনীর নিহত সদস্যরা হলেন স্কোয়াড্রন লিডার উসমান ইউসুফ, চিফ টেকনিশিয়ান আওরঙ্গজেব, সিনিয়র টেকনিশিয়ান নাজিব, করপোরাল টেকনিশিয়ান ফারুক ও সিনিয়র টেকনিশিয়ান মুবাশির।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী ‘মারকা-ই-হক’ ব্যানারের অধীনে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ‘অপারেশন বুনইয়ান উন মারসুস’-এর মাধ্যমে নিখুঁত ও প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে শহীদদের আত্মত্যাগকে দেশের প্রতি অঙ্গীকার ও দেশপ্রেমের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব কিংবা ভূখণ্ডগত অখণ্ডতায় হস্তক্ষেপ করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে কঠোর, সর্বাত্মক ও চূড়ান্তভাবে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘অপারেশন বুনইয়ান উন মারসুস’-এর সাফল্যের স্মরণে প্রতিবছর ১০ মে ‘ইয়াওম-এ-মারকা-ই-হক’ হিসেবে পালিত হবে। পাশাপাশি ১৬ মে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বিশেষ দিবস পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আইএসপিআর আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিবৃতির শেষাংশে তাদের প্রতি সহমর্মতা প্রকাশ করেছে।
সূত্র: ডন
খবরওয়ালা/আরডি