খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বিখ্যাত ধর্মস্থলা মন্দিরে গণকবরের সন্ধান মেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ধর্ষণ ও হত্যার শিকার নারীদের মৃতদেহ গোপনে কবর দেওয়া হতো মন্দির প্রাঙ্গণের কাছাকাছি এলাকায়। সাবেক এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিস্ফোরক বক্তব্যের পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তাঁকে কয়েকশ মরদেহ কবর দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অধিকাংশ মরদেহই ছিল নারী ও শিশুদের। তাদের শরীরে যৌন নির্যাতন ও শারীরিক আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে শনিবার এসব তথ্য উঠে আসে।
ওই কর্মীর দাবি, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে মন্দির চত্বরে গোপনে চলেছে এ ধরনের নির্মম ঘটনা। কেউ কেউ কবর দেওয়া হয়েছে, আবার কারও মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই অভিযোগ সামনে আসার পর মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সমাজকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁরা কর্ণাটক সরকারকে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁদের সন্দেহ, ধর্মস্থলা মন্দিরের প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এই অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন।
এ ঘটনায় কর্ণাটক রাজ্যের নারী কমিশনও সরব হয়েছে। জানা গেছে, গত ৩ জুলাই সাবেক ওই কর্মী ধর্মস্থলা থানায় গিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ২০১২ সালের এক ধর্ষণ ও হত্যার পুরনো, অমীমাংসিত মামলা ফের আলোচনায় এসেছে।
উল্লেখ্য, কর্ণাটকের নেত্রবতী নদীর তীরে অবস্থিত ধর্মস্থলা মন্দির অঞ্চলটি হিন্দু তীর্থযাত্রীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজারো মানুষ সেখানে পুণ্যলাভে যান। রাজনীতিক ও তারকা ব্যক্তিত্বদেরও সেখানে নিয়মিত দেখা যায়। এই পবিত্র স্থানে এমন ভয়াবহ অভিযোগ উঠে আসায় গোটা দেশেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
খবরওয়ালা/এসআই