খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং খাদ্য মজুদ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) আমদানিকৃত চালের নতুন একটি চালান মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ভারত থেকে আসা ৫ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে ভিয়েতনাম পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি হং টার্ন’ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মোংলা বন্দর চ্যানেলের বেসক্রিক এলাকায় নোঙর করে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে জাহাজটি থেকে চাল খালাস ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খাদ্য গুদামগুলোতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা যেকোনো খাদ্যশস্য গুদামজাত করার আগে তার গুণমান কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়। মোংলার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ আব্দুল সোবহান সরদার জানান, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জাহাজটি পরিদর্শন করেন এবং চালের নমুনা সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত এই নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য খুলনা ও ঢাকার কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। এই পরিদর্শন প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল কাদের আজাদ এবং খাদ্য অধিদপ্তরের খুলনার চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক এস কে মশিয়ার রহমান। ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলেই কেবল এই চাল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ ও খালাস করা হবে।
বর্তমান সরকারের খাদ্য আমদানির মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই চালানটি এসেছে। নিচে আমদানির বর্তমান অবস্থা ও পরিকল্পনার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| জাহাজের নাম ও পতাকা | এমভি হং টার্ন (ভিয়েতনাম) |
| আমদানিকৃত চালের পরিমাণ | ৫,০০০ মেট্রিক টন |
| চালের ধরণ | সিদ্ধ চাল |
| আমদানির উৎস দেশ | ভারত |
| জিটুজি চুক্তির আওতাভুক্ত দেশ | ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তান |
| মোট আমদানির লক্ষ্যমাত্রা | ৮,০০,০০০ মেট্রিক টন |
| মোংলা বন্দরে এ পর্যন্ত খালাস | ২৫,০০০ মেট্রিক টন |
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নমুনা পরীক্ষার ছাড়পত্র পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আধুনিক যান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু হবে। পুরো ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল খালাস করতে আনুমানিক চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। খালাসকৃত চাল নদীপথে ছোট কার্গো ও নৌযানের মাধ্যমে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলার কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামগুলোতে (সিএসডি) পাঠানো হবে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চালের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং সরকারি ওএমএস ও টিসিবির কার্যক্রমে গতির সঞ্চার হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত ছাড়াও মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে মোট ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি সম্পন্ন করেছে। মোংলা বন্দর দিয়ে এর আগেও বেশ কয়েকটি চালের চালান সফলভাবে খালাস করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানিকৃত চালের সরবরাহ নিয়মিত থাকলে বাজারে চালের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং সরকারি মজুদও শক্তিশালী হবে।