খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জুনিয়র সাউথ এশিয়ান গেমসের সুনির্দিষ্ট দিন ও তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে এবারের প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। ফেডারেশন অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরির সম্ভাবনাময়ী কিশোর-কিশোরীদের বাছাই ও র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় দল গঠনের পরিকল্পনা করছে।
পল্টনের তাজউদ্দিন আহমেদ উডেন ফ্লোর জিমনেশিয়ামে প্রতিদিন ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে এই বাছাই প্রতিযোগিতা। মোট ৩২ জন খেলোয়াড়—বালক ও বালিকা—এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। তিন দিনের প্রতিযোগিতার শেষে চারটি বিভাগে (অনূর্ধ্ব-১৭ বালক, অনূর্ধ্ব-১৭ বালিকা, অনূর্ধ্ব-১৯ বালক, অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা) সেরা ১৬ জনকে বাছাই করা হবে। বাছাই হওয়া খেলোয়াড়রা পরে বিকেএসপি-তে দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি ক্যাম্পে অংশ নেবে।
| বিভাগ | অংশগ্রহণকারী সংখ্যা | নির্বাচিত খেলোয়াড়ের সংখ্যা |
|---|---|---|
| অনূর্ধ্ব-১৭ বালক | ৮ | ৪ |
| অনূর্ধ্ব-১৭ বালিকা | ৮ | ৪ |
| অনূর্ধ্ব-১৯ বালক | ৮ | ৪ |
| অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা | ৮ | ৪ |
ফেডারেশনের সদস্য সুজন মাহমুদ জানান, “আমাদের পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদী। জুনিয়র সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের টেবিল টেনিস দল থেকে বড় প্রত্যাশা রয়েছে। সময় এখনো জানা না গেলেও আমরা পিছিয়ে নেই। এই বাছাই ও ক্যাম্প মূলত নতুন প্রতিভা উদ্ভাবনের জন্য, যাতে জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও মজবুত হয়।”
বাছাই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন সদ্য শেষ হওয়া জাতীয় টেবিল টেনিস নারী একক ও বালিকা একক চ্যাম্পিয়ন খই খই সাই মারমা। ১৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস-এ জাবেদ আহমেদের সঙ্গে জুটি বেঁধে মিশ্র দ্বৈতে রুপা পদক জিতে সবার নজর কাড়েন।
ফেডারেশন জানাচ্ছে, নির্বাচিত ১৬ জন খেলোয়াড়ের জন্য বিকেএসপি-তে আয়োজিত ক্যাম্প চলাকালীন উচ্চমানের প্রশিক্ষণ, শারীরিক প্রস্তুতি ও মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই উদ্যোগ কেবল জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ মজবুত করবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করবে।
বাছাই ও ক্যাম্প শেষে জুনিয়র সাউথ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে। খেলোয়াড়দের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক আসরে পদক জয়ী হওয়ায় এই দলে তাদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত।
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের লক্ষ্য স্পষ্ট: আগামী কয়েক বছর ধরে জুনিয়র স্তর থেকেই শক্তিশালী জাতীয় দলের ভিত্তি গড়ে তোলা এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগিতায় দেশের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করা।