খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২২ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার মতে, এই উদ্যোগের ফলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবের পাশাপাশি বিচারকাজে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনায় বিচারকাজে কোনো ধরনের আইনি বা পদ্ধতিগত সমস্যার সম্ভাবনা নেই। বরং এটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং আধুনিক পদক্ষেপ।
তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন যে, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের সাশ্রয়ী নীতির সঙ্গে এই সিদ্ধান্তটি সংগতিপূর্ণ। ভার্চুয়ালি মামলা পরিচালনার ফলে দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে এবং সামগ্রিকভাবে বিচার বিভাগে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গত ১৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, হাইকোর্ট বিভাগে প্রতি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিচার কাজ অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে:
১. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়: বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকট বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার সীমিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২. আইনি কাঠামো: এই কার্যক্রমটি ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ এবং হাইকোর্ট বিভাগের জারিকৃত ‘প্র্যাকটিস ডাইরেকশন’ অনুসরণ করে পরিচালিত হবে।
ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার কাঠামো ও প্রভাব সংক্রান্ত তথ্য নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| কার্যকরী দিন | প্রতি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার। |
| সংশ্লিষ্ট বিভাগ | বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। |
| আইনি ভিত্তি | আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০। |
| প্রধান লক্ষ্য | জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং বিচারিক গতি বৃদ্ধি। |
| প্রযুক্তিগত মাধ্যম | সুনির্দিষ্ট প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুযায়ী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। |
বাংলাদেশে ভার্চুয়াল আদালতের ধারণাটি ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময় বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি পুনরায় চালু করার মাধ্যমে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথমত, দূরদূরান্ত থেকে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন হ্রাস পাবে, যা সময় ও অর্থের সাশ্রয় ঘটাবে। দ্বিতীয়ত, এটি বিচার বিভাগে ডিজিটাল রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, প্রধান বিচারপতির এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের আধুনিকায়নে মাইলফলক হয়ে থাকবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশের মামলা জট কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্রক্রিয়া চলাকালীন আইনি কোনো বিচ্যুতি যেন না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
সংক্ষেপে, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালনার এই প্রক্রিয়াটি কেবল একটি সাময়িক সমাধান নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎমুখী বিচার ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।