খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জার্মানির জুরিখভিত্তিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বীমা তথ্য সংস্থা PERILS জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৭ থেকে ১৩ জানুয়ারি ভিক্টোরিয়ায় ঘটে যাওয়া বনাঞ্চল আগুনে প্রায় A$786 মিলিয়ন (US$559 মিলিয়ন) ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত বীমাকারীদের দ্বারা সরবরাহিত ডেটার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। PERILS-এর অস্ট্রেলিয়ার কাভারেজ সংজ্ঞা অনুযায়ী, এই হিসাবটিতে সম্পত্তি (Property) এবং মোটর হুল (Motor Hull) বীমা লাইন অন্তর্ভুক্ত। সংস্থাটি ১৩ এপ্রিল ২০২৬-এ একটি আপডেটেড ক্ষতি অনুমান প্রকাশ করার পরিকল্পনা করেছে।
ভিক্টোরিয়ার এই আগুনের ঘটনা ২০০৯ সালের Black Saturday বিপর্যয়ের পর থেকে সবচেয়ে বিধ্বংসী বনাঞ্চল আগুন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহ এবং শুষ্ক ঘাসভূমির কারণে এই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ৪০০,০০০ হেক্টর এলাকা দগ্ধ হয়, প্রধানত গ্রামীণ অঞ্চলে। এই বিপর্যয়ে একজনের প্রাণহানি ঘটে এবং বাড়ি, পশুপালন, এবং অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
PERILS-এর প্রোডাক্ট ম্যানেজার Luzi Hitz মন্তব্য করেন, “ভিক্টোরিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে – ২০১৯/২০ সালের ‘Black Summer’ এবং ২০০৯ সালের ‘Black Saturday’, যেখানে ১৭৩ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবার মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম হয়েছে, এর কারণ হলো আগুন তুলনামূলকভাবে কম জনবহুল এলাকায় আঘাত হেনেছে, পাশাপাশি সময়মতো জরুরি অবস্থা ঘোষণা, প্রাথমিক সরানো এবং ব্যাপক দমকল কর্মকাণ্ড জীবন বাঁচাতে সহায়ক হয়েছে।”
নিম্নলিখিত টেবিলে ২০২৬ সালের জানুয়ারির আগুনের ক্ষতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো:
| উপাদান | বিবরণ |
|---|---|
| আগুনের তারিখ | ৭–১৩ জানুয়ারি ২০২৬ |
| প্রভাবিত এলাকা | প্রায় ৪০০,০০০ হেক্টর (মূলত গ্রামীণ অঞ্চল) |
| মোট ক্ষতি | A$786 মিলিয়ন (US$559 মিলিয়ন) |
| প্রাণহানি | ১ জন |
| প্রভাবিত বীমা লাইন | সম্পত্তি, মোটর হুল |
| পূর্ববর্তী বড় অগ্নিকাণ্ড | Black Saturday ২০০৯, Black Summer ২০১৯/২০ |
উল্লেখ্য, PERILS প্রতি বছর অগ্নিকাণ্ড, বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উপর নির্ভরযোগ্য বীমা ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় এই ধরনের বিধ্বংসী আগুনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।
ভিক্টোরিয়ার প্রশাসন ইতিমধ্যেই পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের কার্যক্রম শুরু করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিষ্কার, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নেয়া এবং পুনর্নির্মাণে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণও পুনর্নির্মাণ কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আগুনের প্রভাব কমাতে আরও উন্নত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং বনসংরক্ষণ নীতি প্রয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এভাবে, ভিক্টোরিয়ার জানুয়ারির আগুনের ঘটনা ইতিহাসে এক নতুন চরম ক্ষতির অধ্যায় হিসেবে নথিভুক্ত হলো, যেখানে দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম অনেক জীবন বাঁচাতে সহায়ক হয়েছে।