আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণের দিন প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টদের চলাচল এবং যানবাহন ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ভোটের দিন অতিরিক্ত লোকজন ও যানবাহনের কারণে অনেক সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়; সেই প্রেক্ষাপটে কমিশন এবার আগেভাগেই কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং তাঁর প্রত্যেক নির্বাচনী এজেন্ট আলাদাভাবে একটি করে ছোট আকৃতির যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। অনুমোদিত যানবাহনের মধ্যে জিপ, কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অথবা অটোরিকশা অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি যানবাহনে চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন অবস্থান করতে পারবেন। এই সংখ্যার মধ্যে প্রার্থীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত গানম্যানও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন; অর্থাৎ গানম্যানের জন্য অতিরিক্ত আসনের কোনো সুযোগ নেই। চালকের ক্ষেত্রে অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় সংশ্লিষ্ট যানবাহন ব্যবহার নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে।
দেশের কিছু এলাকায় ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বা যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে চার চাকার যান চলাচল সম্ভব নয়। এমন দুর্গম অঞ্চলের জন্য কমিশন বিশেষ বিধান রেখেছে। সেখানে প্রার্থী ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট প্রত্যেকে সর্বোচ্চ দুটি করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি মোটরসাইকেলে চালকসহ অনধিক দুজন যাতায়াত করতে পারবেন এবং এখানেও লাইসেন্সধারী চালক থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়মের মাধ্যমে পাহাড়ি বা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সমানভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
নৌপথনির্ভর এলাকার জন্য আলাদা নির্দেশনা রয়েছে। এসব এলাকায় প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্ট প্রত্যেকে একটি করে নৌযান ব্যবহার করতে পারবেন এবং নৌযান চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন যাত্রী বহন করা যাবে। অতিরিক্ত লোক বহনের কোনো সুযোগ থাকবে না, যাতে নৌপথে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না থাকে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট ও গানম্যান ছাড়া অন্য কেউ যদি যানবাহনে অবস্থান করতে চান, তবে তাঁদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি ও পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া স্টিকার যানবাহনে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। স্টিকারবিহীন যানবাহন ব্যবহার করলে তা বিধিভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো, প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্ট ছাড়া তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কমিশন স্পষ্ট করেছে।
নিচের ছকে ভোটের দিন যানবাহন ব্যবহারের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
চলাচলের ধরন | অনুমোদিত যানবাহন | সর্বোচ্চ সংখ্যা | যাত্রী সীমা
সড়কপথ | জিপ, কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটোরিকশা | ১টি | চালকসহ ৫ জন
দুর্গম এলাকা | মোটরসাইকেল | ২টি | প্রতি মোটরসাইকেলে চালকসহ ২ জন
নৌপথ | নৌযান | ১টি | চালকসহ ৫ জন
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হলে ভোটগ্রহণের দিন শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, প্রার্থীদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা কমবে এবং সাধারণ ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।