ভোলার সদর উপজেলায় পৃথক তিনটি ইউনিয়নে একদিনের ব্যবধানে পুকুরে ডুবে তিনটি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোতে পুরো জেলায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। একই দিনে তিনটি আলাদা পরিবারের শিশুসন্তান হারানোর ঘটনায় স্থানীয় জনজীবনে নেমে আসে শোক ও স্তব্ধতা।
নিহত শিশুরা হলো সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের মো. আকবর হোসেনের ১৬ মাস বয়সী শিশু মো. তাকরিম, আলীনগর ইউনিয়নের শাহাদাত হোসেনের ৪ বছর বয়সী শিশু আজমাইন এবং ভেলুমিয়া ইউনিয়নের মো. দুলালের ১৮ মাস বয়সী কন্যাশিশু তাসফিয়া। তিনটি ঘটনাই ঘটেছে নিজ নিজ বাড়ির আশপাশে থাকা খোলা পুকুরে পড়ে গিয়ে।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে শিশুরা পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘর থেকে বাইরে চলে যায়। কিছু সময় পর তাদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে শিশুদের ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তারা। দ্রুত উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ বাড়ির পাশেই খোলা পুকুর থাকায় ছোট শিশুদের জন্য এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে বাড়ির আঙিনা ও পুকুরের মাঝে কোনো সুরক্ষাবেষ্টনী না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। একই দিনে তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
ভোলা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম জানান, এ ধরনের শিশু মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি বলেন, শিশুদের কখনোই একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় এবং বাড়ির আশপাশে থাকা জলাশয়গুলোতে অবশ্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
ভোলা সদর মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করছেন, গ্রামীণ আবাসন ব্যবস্থায় পুকুর নিরাপত্তা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুকুর ঘিরে দেওয়া, নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
নিম্নে নিহত শিশুদের সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
নাম
বয়স
ইউনিয়ন
ঘটনার স্থান
মো. তাকরিম
১৬ মাস
পূর্ব ইলিশা
বাড়ির পাশের পুকুর
আজমাইন
৪ বছর
আলীনগর
বাড়ির পাশের পুকুর
তাসফিয়া
১৮ মাস
ভেলুমিয়া
বাড়ির পাশের পুকুর
এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আবারও স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, শিশু নিরাপত্তায় সামান্য অবহেলাও বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় খোলা জলাশয়ের আশপাশে বাড়তি সতর্কতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।