খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় সংঘাতের প্রথম কয়েক দিনে ৩ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আনুমানিক তিন লক্ষাধিক যাত্রী বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও দোহা—এই অঞ্চলের প্রধান বিমানবন্দরগুলো কার্যক্রম স্থগিত রাখায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যেই তাদের নাগরিকদের নিরাপদ সরানোর জন্য বিশেষ দল প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের শুরু থেকে ৩ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। নিচের টেবিলে প্রধান প্রভাবিত বিমানবন্দর এবং বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দেখানো হলো:
| বিমানবন্দর | অবস্থান | বাতিল ফ্লাইট সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ১,১০০+ | আংশিক কার্যক্রম স্থগিত |
| হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | দোহা, কাতার | ৮০০+ | আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত |
| আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৭০০+ | সাময়িক বন্ধ |
| শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৬০০+ | সীমিত কার্যক্রম |
| অন্যান্য ছোট বিমানবন্দর | উপসাগরীয় দেশ | ২০০+ | আংশিক ও স্থগিত ফ্লাইট |
এছাড়া, সংঘাতের ফলে এই অঞ্চলের মোট ছয় বা সাতটি প্রধান বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আবুধাবিতে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লাইট পুনরায় বুকিং, হোটেল ভাউচার সংগ্রহ বা অন্যান্য সহায়তার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকে টার্মিনালের ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আকাশসীমা বন্ধ থাকায় এবং সংঘাত অব্যাহত থাকায় হাজার হাজার যাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলে এই বন্ধের প্রভাব একটি ডমিনো প্রভাবের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরগুলো ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এই কেন্দ্রগুলোর বন্ধ থাকা মানে আন্তর্জাতিক সরবরাহ, পর্যটন ও বাণিজ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়া।
এই সংকট চলতে থাকায় নানান দেশের বিমান সংস্থা ও দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিক ও যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৎপর রয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত আকাশসীমা বন্ধ থাকবে, ততক্ষণ হাজার হাজার মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবেন।