মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক বাণিজ্য ঋণবীমা খাত এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। একই সময়ে ২০২৬ সালে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান আশাবাদ প্রকাশ করেছে। এ তথ্য উঠে এসেছে অ্যালিয়ান্ৎস ট্রেড বৈশ্বিক জরিপে, যেখানে ১৩টি বাজারের প্রায় ৬ হাজার প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, ৭৫ শতাংশ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান চলতি বছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকবে বলে প্রত্যাশা করছে। তবে ঝুঁকির ধরনে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ৬৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ভূরাজনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকিকে প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করছে, যা পূর্ববর্তী সময়ে প্রাধান্য পাওয়া সরবরাহ শৃঙ্খল সমস্যাকে অতিক্রম করেছে।
বাণিজ্য ঋণবীমা খাতের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায়। সংঘাত শুরুর পর থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থ পরিশোধের সময়সীমা দীর্ঘতর হয়েছে এবং অনাদায়ী অর্থের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়িক নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের হার ১০ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ৭০ দিনের বেশি সময় ধরে অর্থ পরিশোধের অপেক্ষায় থাকা প্রতিষ্ঠানের হার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে ৪৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করছে অর্থ পরিশোধের শর্ত আরও কঠিন হবে, যা পূর্ববর্তী অবস্থার তুলনায় ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
এছাড়া অনাদায়ী অর্থ বা খেলাপ ঝুঁকি বাড়বে বলে ধারণা করা প্রতিষ্ঠানের হার ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই পরিবর্তন বাণিজ্য ঋণবীমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে দাবি নিষ্পত্তির চাপ বৃদ্ধি পায় এবং গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের ঋণ সক্ষমতা আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু খাত তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধ উৎপাদন খাত, নির্মাণ খাত এবং কম্পিউটার ও টেলিযোগাযোগ খাত। এসব খাতে অর্থ পরিশোধে বিলম্ব এবং আর্থিক চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া বড় আকারের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধে বিলম্বের প্রবণতা আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।
নিচে জরিপের প্রধান তথ্যসমূহ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
পূর্ববর্তী অবস্থা |
বর্তমান অবস্থা |
পরিবর্তন |
| ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধ পাওয়া প্রতিষ্ঠান |
১০ শতাংশ |
৭ শতাংশ |
হ্রাস |
| ৭০ দিনের বেশি সময় অপেক্ষমাণ প্রতিষ্ঠান |
১৫ শতাংশ |
২৪ শতাংশ |
বৃদ্ধি |
| ভবিষ্যতে অর্থ পরিশোধ পরিস্থিতি খারাপ হবে মনে করা প্রতিষ্ঠান |
তুলনামূলকভাবে কম |
৪৩ শতাংশ |
৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি |
| অনাদায়ী অর্থ ঝুঁকি বৃদ্ধি প্রত্যাশা করা প্রতিষ্ঠান |
তুলনামূলকভাবে কম |
৪০ শতাংশ |
৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি |
সার্বিকভাবে, জরিপের ফলাফল থেকে দেখা যায় যে বৈশ্বিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা বজায় থাকলেও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, বাণিজ্য ঋণবীমা খাতে ঝুঁকির মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। এর প্রধান প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে অর্থ পরিশোধের সময়সীমা দীর্ঘায়ন এবং অনাদায়ী অর্থের ঝুঁকি বৃদ্ধির মাধ্যমে, যা বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।