খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১২ জন গভর্নর দায়িত্ব পালন করেছেন। এদের মধ্যে সর্বনিম্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন ড. আহসান এইচ মনসুর, যার মেয়াদ ছিল মাত্র ১ বছর ৬ মাস ১৭ দিন। স্বল্প মেয়াদের হলেও তার শাসনামল বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল মূলত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। অতীতের অভিজ্ঞতায় এই তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণমূলক প্রকল্পে।
তবে আহসান এইচ মনসুরের সময় এই তহবিলের ব্যবহার নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন উঠে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ও সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানে তহবিল বরাদ্দ করেছেন।
প্রধান বিতর্কিত অনুদানসমূহ:
| প্রতিষ্ঠান/প্রকল্প | বরাদ্দের উদ্দেশ্য | অনুদানের পরিমাণ | বিশেষ মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| খলিল-মালিক ফাউন্ডেশন, চুয়াডাঙ্গা | ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের সহায়তা | ২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা | গভর্নরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর উদ্যোগে, সক্ষমতা যাচাই ছাড়াই দ্রুত অনুমোদন |
| চুয়াডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় | কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন | ২৫ লাখ টাকা | গভর্নর ও স্ত্রী উদ্বোধনে উপস্থিত |
| মার্থা লিন্ডস্ট্রম নূরজাহান বেগম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, টাঙ্গাইল | শিক্ষা উন্নয়ন | ২৫ লাখ টাকা | গভর্নর নিজেই পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি |
| নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় | শিক্ষা উন্নয়ন | অজানা | গভর্নরের শৈশবের বিদ্যালয়, বিরল সরকারি প্রতিষ্ঠান অনুদান |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো গভর্নরের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি অনুদান দেওয়া হলে এটি স্বার্থের সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। টাঙ্গাইলের মার্থা লিন্ডস্ট্রম নূরজাহান বেগম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গভর্নরের মালিকানাধীন ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট সংলগ্নতা ও নিরাপত্তা নিয়ে পূর্বে বিতর্ক ছিল। ওই বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বও ছিল আহসান এইচ মনসুরের হাতে। এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয়কে সিএসআর তহবিল থেকে অনুদান দেয়াকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রশ্নবিদ্ধ মনে করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্য কোনো গভর্নরের সময়ে ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিএসআর তহবিল বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ ওঠেনি। তারা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সিএসআর তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নীতিনিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে দীর্ঘ আলোচনা ও নীতিগত পর্যালোচনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সিএসআর তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ড. আহসান এইচ মনসুরের সময়ের সিএসআর বরাদ্দকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়ের অংশ হিসেবে ধরা হয়।