খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদে দু’জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। হিসাবরক্ষক মাহমুদুর রহমান তসলিম ও উচ্চমান সহকারী নূরুল আলম নোমান দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকায় প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন এবং ঘুষ না পেলে কোনো প্রকল্প ফাইলে স্বাক্ষর না করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন, তারা সরাসরি প্রজেক্ট অর্থ ছাড়ে ঘুষ দাবি করেন এবং না দিলে ফাইল আটকে রাখেন।
ভুক্তভোগী সোহাইল আহমেদ বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, তার এবং তার এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হয়েছে। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দুই কর্মকর্তা প্রকল্প ফাইলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছেন এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “টাকা ছাড়া কাজ হবে না।” অভিযোগকারীরা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
জেলা পরিষদের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তসলিম ১৭ বছর এবং নোমান ১৩ বছর ধরে একই অফিসে রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকা কারণে তারা নিজেকে “পরিষদের ডন” হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, তারা এমন প্রভাবশালী যে সিইও বা প্রশাসককেও তোয়াক্কা করেন না, এমনকি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে দম্ভপ্রদর্শন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তারা কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শহর ও গ্রাম এলাকায় তাদের নামে-বেনামে অসংখ্য সম্পত্তি রয়েছে। সাধারণ কর্মচারী হয়ে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই দুই কর্মকর্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল তাদের দ্রুত বদলি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, তাদের দুর্নীতির কারণে জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থমকে যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে হিসাবরক্ষক মাহমুদুর রহমান তসলিম-এর ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্যদিকে উচ্চমান সহকারী নূরুল আলম নোমান বারবার কল কেটে দিয়েছেন।
জেলা পরিষদের সিইও শাহ্ মো: কামরুল হুদা বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
| কর্মকর্তা | পদবী | অভিজ্ঞতা | অভিযোগের ধরণ | প্রভাব ও ক্ষমতা |
| মাহমুদুর রহমান তসলিম | হিসাবরক্ষক | ১৭ বছর | ফাইল আটকে ঘুষ দাবি | জেলা পরিষদে প্রভাবশালী |
| নূরুল আলম নোমান | উচ্চমান সহকারী | ১৩ বছর | ফাইল আটকে ঘুষ দাবি | সিইও ও প্রশাসককেও তোয়াক্কা করেন না |