খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৩ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নওগাঁয় ইয়াবা সেবনের সময় এক যুবককে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে সদর ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ (প্রত্যাহার) করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার সাফিউল সারোয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন—সদর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নূরুন্নবী ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হারুন অর রশিদ।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৬ জুলাই দুপুরে নওগাঁ পৌরসভার লাটাপাড়া মহল্লায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় সদর ফাঁড়ির একটি টিম। অভিযানে ইয়াবা সেবনের সময় রক্তিম (২৬) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। তার দেহ তল্লাশি করে গাঁজা ও ৩৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা এক গণমাধ্যমকর্মীর কাছে সেই টাকা আমানত রাখে রক্তিম। এরপর তাকে পুলিশ ভ্যানে করে সদর ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। তবে ফাঁড়িতে পৌঁছানোর পর রক্তিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি; বরং শুরু হয় দেনদরবার।
অভিযোগ রয়েছে, ফাঁড়ির এসআই নূরুন্নবী ও এএসআই হারুন ওই সাংবাদিকের মধ্যস্থতায় ৩৪ হাজার টাকার বিনিময়ে রক্তিমকে ছেড়ে দেন এবং আটক সংক্রান্ত কোনো তথ্য নথিভুক্ত করেননি।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই হারুন অর রশিদ বলেন, রক্তিমকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি ডোপটেস্ট ছাড়া আসামিকে সাজা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাই পরবর্তীতে ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি সঠিক নয়।
এসআই নূরুন্নবীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খান সালমান হাবীব বলেন, গত ২৬ জুলাই কাউকে মাদকসহ আটক করে আমার কাছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বলেননি কালিতলা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।
সার্বিক বিষয়ে কথা হলে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফারজানা হোসেন বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/এসআই