খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাদ্রাসায় পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় প্রধান আসামি ফিরোজকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা এলাকা থেকে মির্জাপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে মির্জাপুর থানার ওসি মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত ফিরোজ জেলার মির্জাপুর উপজেলার কুড়িপাড়া গ্রামের আব্দুল রশিদ মিয়ার ছেলে। ফিরোজ পেশায় অটোরিকশা চালক। এর আগে এ ঘটনায় ফিজোরের ছেলে সাব্বির হোসাইনকে (২১) মেহেরপুর জেলার গাংনী থানাধীন রামনগর গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মির্জাপুর থানার ওসি মোশারফ হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এ মামলার প্রধান আসামি ফিরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ফিরোজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অটোরিকশাচালক ফিরোজ শিশুটির নানির বাড়ির পাশের জমিতে সার দিচ্ছিল। এ সময় ওই জমির সঙ্গেই শিশুটি বরই গাছ থেকে পড়া বরই কুড়াচ্ছিল। তখন ফিরোজ শিশুটিকে কৌশলে ডেকে একটি টয়লেটের ভেতর নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের কথা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখানো হয় শিশুটিকে।
ঘটনার পর বাড়িতে গিয়ে শিশুটি চুপচাপ থাকায় সন্দেহ হয় পরিবারের। পরে বারবার জিজ্ঞেস করায় একপর্যায়ে কান্না করে পুরো ঘটনা মাকে খুলে বলে ওই শিশু। ধীরে ধীরে এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় আব্দুল মালেক, ইউনুস, বাবলু, নূরুল ইসলামসহ কয়েকজন মাতব্বর ঘটনার সপ্তাহখানেক পর গ্রাম্যসালিশের আয়োজন করে। সালিশে অভিযুক্ত ধর্ষক ফিরোজকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। গ্রাম্য মাতাব্বরদের চাপের মুখে সালিশটি মেনে নেয় অসহায় পরিবারটি।
তবে জরিমানার টাকাগুলো ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় গত ৮ মার্চ রাতে ভুক্তভোগী পরিবার ফিরোজকে প্রধান করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
খবরওয়ালা/টিএ