খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৩ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মাধ্যমিক শিক্ষার ৯টি আঞ্চলিক উপপরিচালক কার্যালয়ের আয়ন-ব্যয়ন ক্ষমতা পরিচালক (কলেজ) এর কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বিকেন্দ্রীকরণ নীতির পরিপন্থী।
২০২৫ সালের ১০ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক পত্রে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে শিক্ষক সমিতি ও উপপরিচালক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখা পরিচালনার দায়িত্ব উপপরিচালক পর্যায়ের। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এই কাঠামোর আওতায় জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে।
২০১৬ সালে এমপিও কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের পর থেকে আঞ্চলিক পর্যায়ে মাধ্যমিক ও কলেজের জন্য দুটি আলাদা কার্যালয় পরিচালিত হয়—একটি পরিচালক (সেসিপ) এবং অন্যটি উপপরিচালক (মাধ্যমিক) এর তত্ত্বাবধানে।
শিক্ষক সমিতির দাবি, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী উপপরিচালক (মাধ্যমিক) এর অর্থনৈতিক ক্ষমতা পরিচালক (কলেজ) এর হাতে গেলে মাধ্যমিক স্তরের প্রশাসনিক স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন হবে এবং বিধি লঙ্ঘন হবে। তারা উল্লেখ করেছেন, ১৯৮১ সালের বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) নিয়োগ বিধিমালায় এ ধরনের ক্ষমতা হস্তান্তরের সুযোগ নেই।
সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি এবং ৯টি আঞ্চলিক উপপরিচালক কার্যালয় পৃথকভাবে আবেদন জমা দিয়েছে। তাদের দাবি—স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতা দূর করতে হবে।
দেশের প্রায় সাতশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক প্রধান শিক্ষক ও পাঁচ শতাধিক সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। জেলা ও সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসারেরও বহু পদ খালি। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মতে, মাধ্যমিক শিক্ষা আধুনিকীকরণ ও কার্যকর প্রশাসনের জন্য আলাদা অধিদপ্তর গঠন এখন সময়ের দাবি।
শিক্ষক নেতা আব্দুস সালাম জানান, নানাবিধ বঞ্চনার ফলে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো শিক্ষা কমিশন, শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, তার সবকটিতেই মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য আলাদা অধিদপ্তর গঠনের সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও আজও তা কার্যকর হয়নি। অথচ বহু আগেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর পৃথক করা হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে শিক্ষা খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য স্বতন্ত্র অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ফলে মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর নানা বঞ্চনা ও বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত। নেই সঠিক নিয়োগবিধি, নেই যৌক্তিক পদোন্নতির কাঠামো। দেশের সাতশতাধিক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় তিন শতাধিক প্রধান শিক্ষক ও পাঁচ শতাধিক সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। প্রায় সব জেলাতেই জেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসারের পদও শূন্য পড়ে আছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মোট ২৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২ হাজারই মাধ্যমিক স্তরের। অথচ শিক্ষাভবনে মাধ্যমিক স্তরের জন্য আছেন মাত্র তিনজন কর্মকর্তা—একজন উপপরিচালক ও দুইজন সহকারী পরিচালক। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘাটতিতে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।
শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই স্তরকে যুগোপযোগী ও আধুনিকীকরণ করে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে হলে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পৃথক করার বিকল্প নেই।
খবরওয়ালা /এমএজেড