খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা গেছে—২৫ বছর বয়সী লিটন বেপারি টানা ১৪ বছর ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। মায়ের মৃত্যু সহ্য করতে না পারায় মানসিক ভারসাম্য হারানো লিটনের জীবন আজ মানবেতর।
২০১৫ সালে মা ফুলমালা বেগমের মৃত্যুর পর বদলে যায় শান্ত-শিষ্ট এই তরুণের জীবন। প্রথমে সামান্য অস্বাভাবিক আচরণ, পরে পুরোপুরি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন তিনি। কখনো নিজেকে আঘাত করার চেষ্টা, কখনো হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে আশপাশের মানুষকে আক্রমণের ঝুঁকি—সব মিলিয়ে পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে বাড়ির পাশের একটি গাছে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে বাধ্য হন স্বজনরা।
বছরের পর বছর ধরে সেই গাছের নিচেই আশ্রয় নিচ্ছেন লিটন। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কিংবা শীত—সবই সহ্য করে বেঁচে আছেন তিনি। প্রতিবেশীরা মাঝে মাঝে খাবার দিয়ে সহানুভূতি দেখালেও মূল ভরসা তার বড় বোন তানজিলা বেগম।
আবেগঘন কণ্ঠে তানজিলা বলেন, ‘ভাইটা ছোটবেলা থেকেই শান্ত-শিষ্ট ছিল, মায়ের প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা। মাকে হারানোর পর থেকে আর আগের মতো নেই। আমরা গরিব মানুষ, দিনে আনি দিনে খাই। চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমাদের নেই। হয়ত সুচিকিৎসা পেলে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারত।’
জানা গেছে, লিটনের বাবা ফয়জল বেপারি অনেক আগেই মারা গেছেন। ফলে সংসারের দায়িত্ব এসেছে বড় বোন তানজিলার ওপর। তার স্বামীর সামান্য আয় দিয়েই চলে পরিবার। এই অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইয়ের চিকিৎসা করানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কায়সার আহাম্মেদ বলেন, ‘পরিবার থেকে লিখিত আবেদন পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসন লিটনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। শিকলবন্দী অবস্থায় এভাবে একজন মানুষের জীবনযাপন অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
এলাকাবাসীর মতে, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে এগিয়ে এলে লিটনের চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব। এতে শুধু একটি তরুণের জীবনই নয়, এক পুরো পরিবারও বাঁচতে পারে।
খবরওয়ালা/শরিফ