খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান সম্প্রতি এই নৌপথটি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করলেও বর্তমানে সেখানে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে যান চলাচল করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তবে তারা পুনরায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেবে।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর বার্তাটি আসে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নেভি এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর নির্দিষ্ট কিছু শর্ত আরোপ করেছে। নতুন নিয়মানুযায়ী, যেকোনো জাহাজকে এই পথ অতিক্রম করতে হলে ইরানের কাছ থেকে পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করছে। গত শুক্রবার ইরানের অন্তত ২১টি জাহাজকে বন্দরের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের সাথে একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধের অবসান ঘটবে না। ওয়াশিংটনের এই অবস্থানকে তেহরান স্ববিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, নৌ-অবরোধ তুলে না নেওয়া হলে প্রণালীটি পুনরায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে ইরান শুধুমাত্র একটি নির্ধারিত রুট দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে, যা কঠোরভাবে তেহরানের নিয়ন্ত্রণাধীন।
এই সংকটের মূলে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা। ওই হামলার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালীতে তাদের প্রতিরক্ষা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করে। পরবর্তীতে গত শনিবার ও রবিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
| তারিখ | ঘটনা | ফলাফল/প্রভাব |
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা | ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি |
| গত শনি ও রবিবার | ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা | আলোচনা ব্যর্থ হওয়া ও উত্তেজনার সূত্রপাত |
| আলোচনা পরবর্তী সময় | মার্কিন নৌ-অবরোধ আরোপ | ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ |
| গত শুক্রবার | সেন্টকম কর্তৃক ইরানি জাহাজ বাধাগ্রস্ত | ২১টি জাহাজকে বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা |
| বর্তমান সময় | ১০ দিনের লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি | ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালী বন্ধের নতুন হুমকি |
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই প্রণালীটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। ইরান এই পথটি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা এই অবরোধ ও টহল বজায় রেখেছে। বিপরীতে, ইরান এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং অর্থনৈতিক যুদ্ধ হিসেবে দেখছে। পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানের কারণে ওই অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে আইআরজিসি নেভির আরোপিত নতুন শর্তসমূহ আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে দুই দেশের নৌবাহিনীর অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে গভীর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।