খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ডিয়েগো গার্সিয়া যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান শুক্রবার সকালে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে মার্কিন ও যুক্তরাজ্য সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হয়নি। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন একাধিক সরকারি ও প্রতিরক্ষা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ঘাঁটিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। একই তথ্য সিএনএনও নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে এই নিক্ষেপ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি ভারত মহাসাগরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঘাঁটিটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত প্রধান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ইরান থেকে ডিয়েগো গার্সিয়ার দূরত্ব প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার। এটির পক্ষে এমন দূরত্বের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। জানা যায়, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ডিয়েগো গার্সিয়ার ওপর আঘাত করতে না পারায় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানায়, এ মুহূর্তে তাদের কাছে হামলার বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে তারা জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| লক্ষ্য | ডিয়েগো গার্সিয়া, ভারত মহাসাগর |
| হামলার ধরন | ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ |
| নিক্ষেপের সময় | শুক্রবার, স্থানীয় সময় সকাল |
| ইরান থেকে দূরত্ব | প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার |
| ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা | ২,০০০ কিমি (সাবেক নির্দেশ) |
| আঘাতের ফলাফল | লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত ব্যর্থ |
| নিহত/আহত | নেই |
| নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ | যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথ পর্যবেক্ষণ |
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, এই ঘটনায় ভারত মহাসাগরের কৌশলগত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে। একইসঙ্গে এটি ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিতও বহন করছে।
মোটকথা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা যদিও কোনো আঘাত বা প্রাণহানি ঘটায়নি, এটি বৈশ্বিক সামরিক পরিস্থিতি ও কৌশলগত স্থাপনার গুরুত্ব আবারও তুলে ধরেছে।