খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশিরা মার্চ মাসে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রায় পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। এটি দেশের এক মাসে আসা রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার (১ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পবিত্র রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে অধিক রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ফলে মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ভালো প্রভাব ফেলেছে।
মার্চ মাসে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা) অনুযায়ী ৪৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৪ শতাংশ; গত বছর মার্চে রেমিট্যান্স ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।
ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩০২ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬-এর জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে মোট ২,৬২১ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২,১৭৮ কোটি ডলার।
নিচের সারণিতে গত কয়েক মাসের রেমিট্যান্সের চিত্র সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| মাস/অর্থবছর | রেমিট্যান্স (মার্কিন ডলার) | হ্রাস/বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|
| ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ৩০২ কোটি | – |
| মার্চ ২০২৪ | ৩৩০ কোটি | – |
| মার্চ ২০২৫ | ৩৭৫.৫০ কোটি | +১৪% |
| জুলাই-মার্চ ২০২৫-২৬ | ২,৬২১ কোটি | +২০% (গত বছর) |
প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১ এপ্রিল) দিন শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। এই বৃদ্ধি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং মুদ্রা বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহে এই বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এবং বৈদেশিক ব্যবসায়িক লেনদেনে স্থিতিশীলতা এসেছে। এছাড়াও, প্রবাসীদের আয় বাড়ায়, খাদ্য, জ্বালানি এবং দৈনন্দিন জীবনের জন্য পরিবারের খরচ মেটাতে সহজ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ দেশীয় বাজারে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতিতে জোরালো বহির্মুখী প্রভাব ফেলবে।
মার্চ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। পবিত্র রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে পাঠানো অর্থ, SMEs ও সাধারণ পরিবারগুলোর চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্সের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।