খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রাপ্ত সতর্কতা চিঠি মুসল্লিদের সামনে ছিঁড়ে ফেলেছেন। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি জুমার খুতবায় জামায়াতে ইসলামী বিরোধী বক্তব্য প্রদান করেছেন।
গত ১৬ অক্টোবর উত্তরা পশ্চিম থানা জামায়াতে ইসলামী দপ্তর সম্পাদক জি. এম. আসলামের স্বাক্ষরিত চিঠিটি ১৭ অক্টোবর সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। চিঠিতে বলা হয়, বায়তুন নূর জামে মসজিদ অত্র এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ। এখানে সেক্টরবাসীসহ আশপাশের বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ নামাজ আদায় করেন। সুতরাং খতিব মিম্বারের মতো নিরপেক্ষ স্থানে দাঁড়িয়ে সকল মতের মানুষের জন্য কুরআন-হাদীসের আলোকে হেদায়েতমূলক নসিহা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর জুমার খুতবায় খতিব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই বক্তব্য হীনমন্যতা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক, যা সমাজে বিভেদ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। চিঠিতে অনতিবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় যে কোনো পরিস্থিতির দায়ভার খতিব ও মসজিদ কমিটিকে নিতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে আজ জুমার আগে মিম্বারে বসে খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী চিঠি প্রত্যাখ্যান করেন। উপস্থিত মুসল্লিদের বরাতে জানা গেছে, তিনি বলেন, ‘রোজা আর পূজা এক নয়। গত শুক্রবারও বলেছি, আজ আবারও বলছি—আপনারা সংযত ও সংশোধন হোন, তাওবা পড়ুন।’ এরপর খতিব নিজ হাতে চিঠিটি মুসল্লিদের সামনে ছিঁড়ে ফেলেন এবং মুসল্লিরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি তোলেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, খতিব নাগরিক হিসেবে কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন করতে পারেন, তবে মসজিদের মিম্বারে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া শোভন নয়। মসজিদে বিভিন্ন মতের মুসল্লি নামাজ আদায় করেন, তাই মিম্বারে কোনো দলের এজেন্ডা প্রচার করা অনুচিত। মসজিদ কমিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন সকল মুসল্লি নির্বিঘ্নে জুমা আদায় করতে পারেন এবং খতিবের পক্ষপাতমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চিঠির অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে ডিয়ারাবাড়ী আর্মি ক্যাম্প, উত্তরা; উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার; উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ; এবং ১২ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারির কাছে।
খবরওয়াল/এন