খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন প্রশংসনীয় ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সেই ধারাবাহিকতায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যুক্ত হলো তার আরও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। স্টেডিয়ামের দেওয়ালে এই প্রথমবারের মতো স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের কৃত্বিত্বের স্মারক ‘অনার্স বোর্ড’। এর মাধ্যমে দেশের নারী ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের একটি বড় আক্ষেপ ও প্রত্যাশার অবসান ঘটল।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের অনার্স বোর্ডে এতদিন ধরে শুধুমাত্র পুরুষ ক্রিকেটারদের নাম ও অর্জনের বিবরণ লিপিবদ্ধ করা হতো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নারী দলের গৌরবোজ্জ্বল পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও স্টেডিয়ামের দেওয়ালে তাদের স্বীকৃতির কোনো স্থান ছিল না।
সম্প্রতি নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিসিবি সভাপতির একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে নারী ক্রিকেটাররা এই বিষয়টি নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ও মনকষ্টের কথা প্রকাশ করেন। ক্রিকেটারদের এই যৌক্তিক দাবিকে আমলে নিয়ে তামিম ইকবাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেয়েদের জন্য পৃথক অনার্স বোর্ড তৈরির নির্দেশ দেন।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নিজেই এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মূল ভবনের প্রবেশমুখের এক পাশের দেওয়ালে আগে থেকেই ছেলেদের দলের অনার্স বোর্ড ছিল। এখন ঠিক তার অপর পাশের দেওয়ালে মেয়েদের জন্য সমমর্যাদায় এই নতুন অনার্স বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ক্রিকেটে লিঙ্গবৈষম্য দূর করা এবং নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা। বিসিবি সভাপতি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, নারী কিংবা পুরুষ—উভয় দলই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই দেশের ক্রিকেটে সবার অবদানই সমান এবং সবাই একই সম্মান পাওয়ার যোগ্য। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নারী ক্রিকেটারদের অবদানকে যেমন আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল, ঠিক তেমনি ক্রীড়াঙ্গনে সমতার একটি শক্তিশালী বার্তাও পৌঁছে দিল।
নতুন স্থাপিত এই দুটি বোর্ডে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অংশ নেওয়া নারী ক্রিকেটারদের নাম ও কৃতিত্বের বিবরণ গর্বের সাথে খোদাই করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
স্টেডিয়ামের মূল ভবনে প্রবেশদ্বারের উভয় পাশের দেওয়ালে যেভাবে অনার্স বোর্ডগুলো বিন্যস্ত করা হয়েছে, তা নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| দেওয়ালে অবস্থান | অনার্স বোর্ডের ধরণ | যে তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে | মূল বার্তা ও তাৎপর্য |
| প্রবেশমুখের এক পাশে | ছেলেদের আন্তর্জাতিক অনার্স বোর্ড | পুরুষ দলের ক্রিকেটারদের ওয়ানডে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অর্জনের বিবরণ। | পুরুষ ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। |
| প্রবেশমুখের অন্য পাশে (নতুন) | মেয়েদের আন্তর্জাতিক অনার্স বোর্ড | নারী দলের ক্রিকেটারদের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অর্জনের বিবরণ। | নারী ক্রিকেটারদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও ক্রিকেটে সমতা নিশ্চিতকরণ। |
বিসিবির এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের মনোবল আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এটি দেশের সামগ্রিক ক্রিকেট সংস্কৃতির উন্নয়নে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।