খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মহান মুক্তিযুদ্ধের অনন্য গুরুত্ব এবং এর ঐতিহাসিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি স্পষ্টভাবে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে নানা আন্দোলন-সংগ্রাম সংঘটিত হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধকে অন্য যেকোনো অর্জনের সাথে একই সমান্তরালে বা এক করে দেখা সমীচীন হবে না। মূলত মুক্তিযুদ্ধই এই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রধান স্তম্ভ।
গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর নবনিযুক্ত সদস্যদের সাথে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, পতাকা এবং সার্বভৌম জাতিসত্তা হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মূলে রয়েছে ১৯৭১ সালের সেই সশস্ত্র জনযুদ্ধ।
তিনি গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, বিগত দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এই অপব্যবহারের ফলে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটেছে এবং বর্তমান তরুণ প্রজন্ম প্রকৃত সত্য জানা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তিনি বলেন:
“আমাদের পূর্বসূরি মুক্তিযোদ্ধারা যে অসীম ত্যাগ, রক্ত আর তিতিক্ষার বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন করেছেন, সেই সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধই এই রাষ্ট্রের জন্মের একমাত্র এবং অবিচল ভিত্তি।”
মতবিনিময় সভায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নির্ভুল করা এবং ভুয়া গেজেট বাতিলের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রী জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব সহ্য করা হবে না। সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
| আলোচনার প্রধান বিষয় | গৃহীত সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য |
| ইতিহাস সংরক্ষণ | জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এবং বীরত্বগাথা নথিবদ্ধ করা। |
| তালিকা যাচাই-বাছাই | রাজনৈতিক বিবেচনায় অন্তর্ভুক্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। |
| তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা | শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস পৌঁছে দিতে বিশেষ সেমিনার ও কর্মসূচির উদ্যোগ। |
| চেতনার সুরক্ষা | মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধে আইনি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। |
মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা কিংবা ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান—সবই আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কিন্তু ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ জনযুদ্ধ, যা একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে। তাই এই মহান সংগ্রামকে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করলে তার মহিমা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা প্রদান এবং তাদের ডিজিটাল সনদ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও অপশক্তি রোধে মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের বীরত্বগাথা পাঠ্যপুস্তকে আরও বিশদভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
উপসংহারে মন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ কোনো বিশেষ দলের সম্পদ নয়, এটি সমগ্র জাতির সম্পদ।” তিনি জামুকার সদস্যদের আহ্বান জানান যাতে তারা প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সততা ও নিরপেক্ষতার পরিচয় দেন এবং ইতিহাসের দায়মুক্তিতে অবদান রাখেন।