খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কড়ইবাড়ি গ্রামে মোবাইল চুরির অভিযোগে এক পরিবারের তিন সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে কুমিল্লার আদালত।
বুধবার (৯ জুলাই) কুমিল্লার ১১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হক এই রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।
আসামিরা হলেন মো. সবির আহমেদ (৪৮), মো. নাজিম উদ্দীন বাবুল (৫৬), ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া (৫০), রবিউল আওয়াল (৫৫), দুলাল (৪৫), আতিকুর রহমান (৪২), বয়েজ মাস্টার (৪৩) ও আকাশ (২৪)।
কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩ জুলাই কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কড়ইবাড়ি গ্রামে মোবাইল চুরির ঘটনা ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে স্থানীয়দের একটি দল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে মা-মেয়েসহ একই পরিবারের তিন সদস্যকে নির্মমভাবে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করে।
নিহতরা হলেন কড়ইবাড়ি গ্রামের জুয়েল মিয়ার স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুবি (৫৫), তার ছেলে রাসেল মিয়া (২৮) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (২২)। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন রুবির আরেক মেয়ে রুমা আক্তার, যাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রুবির মেয়ে রিক্তা বেগম বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় মামলা দায়ের করেন, যেখানে ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল ও ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া সহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও অজ্ঞাত ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর সেনাবাহিনী এবং র্যাব যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযোগ রয়েছে যে এই হত্যাকাণ্ডটি মোবাইল চুরির ঘটনা ও মাদক সংশ্লিষ্টতার কারণে ঘটেছে।
মামলার তদন্ত গত সোমবার (৭ জুলাই) জেলা ডিবি পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন কুমার চক্রবর্তী বিষয়টি তদন্ত করছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ৮ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এ ছাড়া, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
খবরওয়ালা/আরডি