খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়কে ধর্ষণ, বোরকা, হিজাব ও নারী বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এক মুসলিম ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ‘WeeklyService923’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে বিষয়টি নিয়ে গর্বের সঙ্গে লিখেন। তবে তখন তার আসল পরিচয় কেউ জানত না কারণ রেডিটে তিনি নিজের নাম প্রকাশ করেননি।
তবে তার ব্যবহৃত ছদ্মনাম ও কিছু অনলাইন কার্যক্রম থেকে সূত্র খুঁজে পান বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করে শেষ পর্যন্ত তারা নিশ্চিত হন, ওই আইডির পেছনের ব্যক্তি আর কেউ নন, বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়।
কীভাবে শিক্ষার্থীরা তাকে শনাক্ত করে
ব্যাচ পরিচয়: রেডিটের কয়েকটি পোস্টে ‘WeeklyService923’ নিজেকে “BUET EEE-21” ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করে। এ তথ্য থেকেই অনুসন্ধান শুরু করেন বুয়েটের ওই ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থী।
এয়ারবাডসের সূত্র: এক পোস্টে তিনি নিজের ব্যবহৃত বেসুস ব্র্যান্ডের ইয়ারবাডসের কথা বলেন। সহপাঠীরা লক্ষ্য করেন, শ্রীশান্ত নিয়মিত একই ব্র্যান্ডের ইয়ারবাডস ব্যবহার করেন।
নেপাল ভ্রমণ: ওই ব্যবহারকারী ২০২৫ সালের জুন মাসে নেপালের মুস্তাং এলাকায় যাওয়ার কথা লেখেন। ঠিক একই সময়ে (৩ জুন) শ্রীশান্ত রায় তার ফেসবুকে মুস্তাংয়ের ছবি পোস্ট করেছিলেন।
লেখনশৈলীর মিল: সহপাঠীরা জানান, রেডিট আইডির লেখার ধরন, শব্দচয়ন ও ভাবভঙ্গি শ্রীশান্তের লেখনশৈলীর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
রাজনৈতিক অবস্থান: বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি বর্জনের স্বাক্ষর অভিযানের সময় শ্রীশান্ত একমাত্র শিক্ষার্থী যিনি সেই কাগজে স্বাক্ষর করেননি। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই অবস্থান তার রেডিট পোস্টগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সবশেষে এসব তথ্য মিলিয়ে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা নিশ্চিত হন যে রেডিটের ‘WeeklyService923’ নামের ছদ্মনামের আড়ালে ছিলেন তাদের সহপাঠী শ্রীশান্ত রায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে।
খবরওয়ালা/এমইউ