খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সংগীতপ্রেমীরা স্তম্ভিত জুবিন গার্গের আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ভক্তরা তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। গায়কের মৃত্যু ঘিরে উঠে এসেছে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা।
জুবিনের মৃত্যুর পর আসাম সরকার ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। এই শোক দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকেও স্পর্শ করেছে।
মৃত্যুর আগে লেখক ও উপন্যাসিক রীতা চৌধুরীর সঙ্গে জুবিন একটি পডকাস্ট করেছিলেন। গায়কের মৃত্যুর পর সেই পডকাস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। পডকাস্টে জুবিন আগেই বলেছিলেন, তার মৃত্যু হলে আসামের মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘আমি যদি আসামে মারা যাই, আসাম সাত দিন থমকে যাবে।”
মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল জীবন জুবিনকে কখনো টানেনি। তার হৃদয় ও শান্তি ছিল আসামে। পডকাস্টে জুবিন বলেন, ‘আমি ১২ বছর মুম্বাইয়ে ছিলাম, শহুরে জীবন আমাকে বিরক্ত করে তুলেছিল। অনেকে জিজ্ঞাসা করতো, কেন মুম্বাইয়ে থাকি না? আমি বলেছি, রাজা কখনো নিজের রাজ্য ছেড়ে যায় না। ওখানে কোনো রাজা নেই। লতা মঙ্গেশকর মারা গেলেন, কিছু হলো? রাজেশ খান্না মারা গেলেন, শুধু খবর হলো। কিন্তু আমি যদি আসামে মারা যাই, আসাম সাত দিন থমকে যাবে।’
গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জুবিনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। হাজারো ভক্ত উপস্থিত ছিলেন শেষবিদায় জানাতে। এর আগে গুয়াহাটির ভোগেশ্বর বড়ুয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য তার মরদেহ রাখা হয়েছিল। বিপুল ভিড় সামলাতে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, স্টেডিয়াম সারা রাত খোলা থাকবে।
জুবিনের ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভালে পারফর্ম করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে স্কুবা ডাইভিং করতে নেমে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। তিনি মৃগী রোগে ভুগছিলেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
জুবিনের মৃত্যু তার পূর্বাভাসকৃত সাত দিনের থমকে থাকা মুহূর্তের মতো আসামের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সূত্র: এনডিটিভি
খবরওয়ালা/এমএজেড