খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
রংপুর নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত রোগীকে জীবিত দেখিয়ে আইসিইউতে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের অবহেলা এবং মৃত্যুর পর তা গোপন রাখার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, এনজিওগ্রাম করানোর সময় হার্ট অ্যাটাকের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ নভেম্বর নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বমুনিয়া গ্রামের মকসেদ আলী (৫০) রংপুর নগরীর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনজিওগ্রামের জন্য ভর্তি হন। ৬ নভেম্বর বিকেল ৪টার সময় ডা. আবু জাহিদ বসুনিয়া মকসেদ আলীর এনজিওগ্রাম পরীক্ষা শুরু করেন। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের কাছ থেকে একটি বন্ডে স্বাক্ষর নিয়ে দ্রুত রিং পরানোর সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক।
অপারেশন চলাকালীন মকসেদ আলী মারা যান। এরপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জীবিত হিসেবে দেখিয়ে আইসিইউতে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা জোরপূর্বক আইসিইউতে প্রবেশ করেন এবং মকসেদ আলীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রোগীর স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা হাসপাতালে বিক্ষোভে অংশ নেন। হাসপাতাল কর্মচারী ও তাদের সহযোগীরা বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
নিহতের ছেলে শাফিউল ইসলাম বলেন, “অপারেশন রুমে বাবা শব্দ করেছিলেন। কিন্তু আইসিইউতে নেওয়া হলে তার শরীরে কোনো সাড়া ছিল না। তখন আমি বুঝতে পারি বাবা মারা গেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবসার স্বার্থে তাকে জীবিত দেখিয়েছে।”
হাসপাতালের পরিচালক মিরাজুল মহসিন বলেন, “রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি আইসিইউতেই মারা যান। স্বজনরা জোর করে আইসিইউতে প্রবেশ করে ফেসবুক লাইভ করার কারণে অন্য রোগীদের সমস্যা দেখা দেয়, তাই আমাদের কর্মচারীরা বাধা দিয়েছিল।”