খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
ফুটবল বিশ্বে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভক্তদের মধ্যে একটি অবাঞ্ছিত, কিন্তু দারুণ চ্যালেঞ্জিং প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে—কার ক্যারিয়ারে প্রথম ১০০০ গোল পূর্ণ হবে? বিশ্বকাপের মরশুমে এই হিসাবের ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে, যেখানে ভক্তরা প্রতিটা গোলকে একটি করে সংখ্যা হিসেবে গণনা করছেন।
বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রোনালদো ক্যারিয়ারে ১,৩১২টি ম্যাচ খেলে ৯৬৫টি গোল করেছেন। ১০০০ গোলে পৌঁছাতে তিনি আরও মাত্র ৩৫টি গোল করতে হবে। অন্যদিকে, ১,১৪৩ ম্যাচে ৯০১টি গোল করা মেসির আরও ৯৯টি গোল প্রয়োজন। আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, রোনালদো বছরের প্রতি গড়ে প্রায় ৪০টি গোল করেন। এই হিসাব মেনে চললে, রোনালদো ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুতে হাজার গোলের মাইলফলক পূর্ণ করতে পারেন। তবে, ৪১ বছর বয়সে তাঁর ফিটনেস বিষয়ক সীমাবদ্ধতা বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
মেসির জন্য বয়সের সুবিধা কিছুটা বেশি। ৩৮ বছর বয়সী মেসি এখনও ফিটনেসে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী এবং খেলার ধার ধরে রাখার সম্ভাবনা বেশি। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএসের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর, মেসির ম্যাচ প্রতি গড় গোল ০.৮০। যদি তিনি একই ফর্ম ধরে রাখেন এবং বছরে গড়ে ৫০টি ম্যাচ খেলেন, তবে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৪০টি গোল করার সম্ভাবনা থাকবে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে, মেসি প্রায় আড়াই বছর সময়ের মধ্যে ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন, অর্থাৎ ২০২৮ সালের শেষ বা ২০২৯ সালের শুরুতে।
মেসির ক্যারিয়ারের গোল বিতরণ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| ক্লাব/দল | ম্যাচ | গোল | ম্যাচ প্রতি গোল গড় | মন্তব্য |
| বার্সেলোনা | ৭৭৮ | ৬৭২ | ০.৮৬ | সোনালি সময়ে গোলসংখ্যা বেশি |
| আর্জেন্টিনা জাতীয় দল | ১৯৬ | ১১৫ | ০.৫৮ | আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স |
| পিএসজি | ৭৫ | ৩২ | ০.৪৩ | ফরাসি ক্লাবের সময় |
| ইন্টার মায়ামি | ৯৪ | ৮২ | ০.৮৭ | বর্তমান ফর্ম এবং ফিটনেস |
বিশেষভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ইন্টার মায়ামিতে মেসির ফর্ম সবচেয়ে বেশি প্রগতিশীল। ক্লাব ও দেশের জন্য এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, ১০০০ গোলের লক্ষ্য স্পর্শ করা অসম্ভব নয়। তবে এই মাইলফলক অর্জনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শারীরিক ফিটনেস এবং খেলার ধার বজায় রাখা।
মাইলফলকটি অর্জন করার সময় মেসি হয়তো ৪১ বছর বয়সে পৌঁছাবেন। এমএলএসের ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তি ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে যদি তিনি খেলার সময় বাড়ান বা ২০২৬ বিশ্বকাপে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখান, লক্ষ্যটি আরও আগেই পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি শুধু একটি সংখ্যা নয়; এটি একটি কিংবদন্তির ধারাবাহিকতা এবং মানব সম্ভাবনার উদাহরণ। মেসির হাজার গোলের মুহূর্ত নিশ্চিতভাবেই অপেক্ষা করছে ফুটবল ইতিহাসের পাতায়।