খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৩ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে জয়লাভ করে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ তথা অঘোষিত ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। ২৬৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং তোপে ৪৪.৫ ওভারে মাত্র ২১০ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ফলে ৫৫ রানের বড় জয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এই সিরিজের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য আশানুরূপ ছিল না। প্রথম ওয়ানডেতে ২৪৮ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ২২১ রানে অলআউট হয়ে ২৬ রানে পরাজিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচের ঠিক আগ মুহূর্তে চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন দলের অন্যতম প্রধান পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। মোস্তাফিজকে ছাড়াই নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৯৯ রানে আটকে দিয়ে ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ, যার ফলে সিরিজে ১-১ সমতা বিরাজ করছিল।
সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে একাদশে ফিরেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন ‘দ্য ফিজ’। তার নিয়ন্ত্রিত লেন্থ এবং কাটারের সামনে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। মোস্তাফিজ তার কোটার ৯ ওভার বোলিং করে মাত্র ৪৩ রান খরচ করে ৫টি উইকেট শিকার করেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ষষ্ঠবারের মতো পাঁচ বা তার বেশি উইকেট (ফাইফার) শিকারের কৃতিত্ব।
নিচে সিরিজের ফলাফল এবং শেষ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| সিরিজের ফলাফল | বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী |
| শেষ ম্যাচের ভেন্যু | জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম |
| বাংলাদেশের স্কোর | ২৬৫/৯ (৫০ ওভার) |
| নিউজিল্যান্ডের স্কোর | ২১০/১০ (৪৪.৫ ওভার) |
| জয়ের ব্যবধান | বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী |
| মোস্তাফিজের বোলিং স্পেল | ৯-০-৪৩-৫ |
| মোস্তাফিজের ক্যারিয়ার ‘ফাইফার’ | ৬টি (ওয়ানডে ফরম্যাটে) |
মোস্তাফিজুর রহমান দলে ফেরার মাধ্যমে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নতুন মাত্রা পায়। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট তুলে নিয়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের মিডল অর্ডারে ধস নামান। ওয়ানডে ক্রিকেটে এ নিয়ে ষষ্ঠবার পাঁচ উইকেট শিকার করে তিনি বাংলাদেশের সফলতম বোলারদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করলেন। তার এই বিধ্বংসী বোলিংয়ের কারণে ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করা নিউজিল্যান্ডের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের লড়াকু সংগ্রহ এবং বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে আরও একটি সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে মোস্তাফিজের প্রত্যাবর্তন এবং তার আক্রমণাত্মক বোলিং এই সিরিজ জয়ের প্রধান কারিগর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, প্রথম ম্যাচে হারের পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের একটি প্রতিফলন।