খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ইরান জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা তাদের প্রতিটি ম্যাচ অনুষ্ঠানের অন্তত এক দিন আগে আয়োজনকারী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সুনির্দিষ্ট অনুমতি লাভ করেছেন। আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টে ইরান দল ‘জি’ গ্রুপ থেকে তাদের সবগুলো ম্যাচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভেন্যুতে খেলবে। তবে রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ইরানি দলের মূল আবাসন ও অনুশীলন কেন্দ্র বা বেজক্যাম্প করা হয়েছে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিহুয়ানাতে। সেখান থেকে ম্যাচের সময়সূচি অনুযায়ী তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করবে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে এই যাতায়াত বিধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদাহর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ব গণমাধ্যমে ভিন্ন খবর প্রকাশিত হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান দলকে কেবল ম্যাচের দিনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে এবং খেলা শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুত মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের একজন মুখপাত্র এই তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন। এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরান দলকে ম্যাচের দিনই আসতে বাধ্য করার বিষয়টি সঠিক নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ বিবেচনায় ইরান দল তাদের নির্ধারিত খেলার এক দিন আগেই ভেন্যু শহরে পৌঁছানোর পূর্ণ সুযোগ লাভ করবে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র আমির মেহদি আলাভি এই বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন, যা ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ প্রকাশ করেছে। আলাভি জানান, আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) সমস্ত নিয়ম অনুসরণ করে ইরান দল একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে করে মেক্সিকো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করবে। সূচি অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের এক দিন আগে দল ভেন্যুতে পৌঁছালেও, পরবর্তী দুটি ম্যাচের ক্ষেত্রে তারা দুই দিন আগেই ভেন্যু শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
মেক্সিকোর তিজুয়ানায় দোভাষীর মাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদাহ ফেডারেশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ভিসা বাতিলের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে, দলের যেসব খেলোয়াড় ও স্টাফ ভিসা পেয়েছেন, তাঁদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাতে অবস্থান করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা বা নিষেধাজ্ঞা নেই। তাঁদের ভিসায় এমন কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত যুক্ত করা হয়নি যে ম্যাচ শেষ হওয়ামাত্রই দেশ ত্যাগ করতে হবে। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা শেষে গত শুক্রবার, অর্থাৎ ইরানের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে দলের সব ফুটবলারকে ভিসা মঞ্জুর করে মার্কিন প্রশাসন।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এখনো ভিসা পাননি। মেক্সিকোতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ভিসা না পাওয়া ব্যক্তিদের এই তালিকায় রয়েছেন দলের ম্যানেজার, দুজন টেকনিক্যাল বিশ্লেষক, মিডিয়া পরিচালক এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি।
নিচে বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচের তারিখ, প্রতিপক্ষ এবং ভেন্যু সংক্রান্ত তথ্যাদি একটি ছকের মাধ্যমে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক সংখ্যা | ম্যাচের তারিখ | প্রতিপক্ষ দল | ভেন্যু বা শহর (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) | দলের মূল বেজক্যাম্প |
| ১ | ১৫ জুন | নিউজিল্যান্ড | লস অ্যাঞ্জেলেস | তিহুয়ানা, মেক্সিকো |
| ২ | ২১ জুন | বেলজিয়াম | লস অ্যাঞ্জেলেস | তিহুয়ানা, মেক্সিকো |
| ৩ | ২৬ জুন | মিসর | সিয়াটল | তিহুয়ানা, মেক্সিকো |
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপে ইরানের ফুটবলারদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যে নিজেদের প্রধান বেজক্যাম্প করার কথা ছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মেক্সিকোতে আবাসন ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে গত মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে তাঁর কোনো আপত্তি নেই, তবে ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে’ ইরানি দলের জন্য দীর্ঘ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করাটা সমীচীন হবে না। সেই নিরাপত্তা নির্দেশনার আলোকেই বর্তমান যাতায়াত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।