খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের চার দিন আগে জাতীয় ফুটবল শিবিরে এলো অপ্রত্যাশিত খবর। চোটের কারণে দুজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়—মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও সুমন রেজাকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব না হওয়ায়, তাঁরা দু’জনই শিবির ত্যাগ করেছেন। ইব্রাহিম ফিরেছেন আবাহনীতে, আর সুমন রেজা মোহামেডানে।
অনুশীলনের প্রথম দিনেই তাঁরা মাঠের বাইরে ছিলেন। তাঁদের সাথে আরও ছিলেন তপু বর্মণ ও আল-আমিন। এই দু’জন এখনো সামান্য খুঁড়িয়ে চললেও শিবিরে রয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের শারীরিক অবস্থা কেমন দাঁড়ায়, সেই প্রতীক্ষায় আছেন কোচ।
প্রাথমিক তালিকায় ৩০ জন খেলোয়াড় ছিলেন। দু’জন ছিটকে যাওয়ায় বর্তমানে মোট সদস্য সংখ্যা ২৮। এর মধ্যে হামজা ও শামিত দলে যোগদানের অপেক্ষায় আছেন। আজ সোমবার সকালে হামজা শিবিরে পৌঁছাবেন। তিনি তিনটি অনুশীলন সেশনে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকায় এসে শামিত সোমবার মাত্র এক বেলা অনুশীলনের সুযোগ পাবেন।
রবিবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষণের আগে প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা সংবাদমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি দলের প্রস্তুতি এবং খেলোয়াড়দের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। ক্যাবরেরা বলেন, ‘অনুশীলন খুব ভালোভাবে চলছে। ক্যাম্পের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত দলের অগ্রগতিতে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশাবাদী। সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। অনুশীলনের আরও চারটি সেশন বাকি আছে। এই সময়টা একটি বড় চ্যালেঞ্জের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার জন্য জরুরি।’
শুরু থেকেই ইনজুরি একটা বড় সমস্যা ছিল। এই বিষয়ে কোচ বলেন, ‘এই কারণেই এবার আমরা দল বড় রেখেছি। সুমন ও ইব্রাহিম দু’জনই ভালো অবস্থায় এসেছিল। তারিক, তপু এবং আল-আমিন—এই পাঁচজনের কিছুটা চোট ছিল। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি যাতে সুমন রেজা এবং ইব্রাহিম যথাসময়ে চোটমুক্ত হতে পারে; কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের ক্লাবে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।’
হালকা আঘাত নিয়ে অনুশীলন শুরু করা তারিক কাজী, তপু বর্মণ এবং আল-আমিনের প্রসঙ্গে ক্যাবরেরা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আশাবাদী। তারিক এবং আল-আমিন আজ প্রশিক্ষণে ফিরে এসেছেন। আশা করছি তপুও খুব দ্রুত ফিরবে। আমরা সবার কাছ থেকেই বড় ধরনের পারফরম্যান্স আশা করছি। নিজেদের মাঠে খেলে ৩ পয়েন্ট অর্জন করার এটা আমাদের জন্য এক চমৎকার সুযোগ। তাহলে আমরা পুনরায় মূল পর্বে খেলার দৌড়ে একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারব। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চাই। যারা এখন দলে আছেন, তাদের সবার কাছে এটাই প্রধান লক্ষ্য, তেমনি হামজা ও শমিতের জন্যও।’
হামজা এবং শামিত সম্পর্কে ক্যাবরেরা বলেন, ‘হামজা আজ (সোমবার) সকালেই আসছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সে আমাদের সাথে তিনটি অনুশীলন পর্বে অংশ নেবে। শমিতের বিষয়টি কিছুটা জটিল। সে মঙ্গলবার রাতে আসবে এবং ম্যাচের আগের দিন কেবল একবার অনুশীলন করতে পারবে। তাই তার অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সবমিলিয়ে ক্যাবরেরা এই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জনের প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে বেশি। আমরা সম্পূর্ণরূপে আশাবাদী যে, তিন পয়েন্ট নিতে পারব। হংকং খুবই শক্তিশালী একটি দল, শারীরিকভাবে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী। অবশ্যই তাদের বিপক্ষে আমরা বেশ চাপে থাকব। তবে আমাদের সঠিক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। একে অপরের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। যদি আমরা সম্মিলিত থাকি এবং পূর্বের মতো ভালো খেলতে পারি, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হব।’
খবরওয়ালা/টিএসএন