খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৬ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক গ্রাম্য সালিশে দুই যুবককে বর্বরভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা শনিবার (১৪ জুন) বিকেলে বারদী ইউনিয়নের মসলন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন মসলন্দপুর গ্রামের নবী হোসেনের ছেলে আল আমিন ও জামান মিয়ার ছেলে পারভেজ।
সূত্র জানায়, গত ৯ জুন রাতে স্থানীয় এভারগ্রিন কিন্ডারগার্টেন স্কুল থেকে ৯টি ফ্যান ও একটি বৈদ্যুতিক মোটর চুরি হয়। পরে ১৪ জুন দুপুরে পার্শ্ববর্তী আড়াইহাজার উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় এসব সরঞ্জাম বিক্রির সময় জনতা আল আমিন ও পারভেজকে আটক করে এবং গণপিটুনি দেয়।
পরে বিকেলে মসলন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে এক সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য ওমর ফারুকসহ শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সালিশে দুই যুবককে দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধর করা হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি সদস্য ওমর ফারুক এবং স্থানীয় নুর মোহাম্মদ ওরফে নুরা পাগলা প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে দুই যুবককে বারবার আঘাত করছেন। এমনকি একপর্যায়ে ইউপি সদস্য নিজে একজন যুবকের গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আল আমিন, পারভেজ ও শান্ত নামে তিন যুবক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের চুরির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আগেও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার করা হলেও তারা সংশোধন হয়নি। এ কারণে এবার উত্তেজিত হয়ে ইউপি সদস্য নিজেই শাস্তি কার্যকর করেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, “চোরেরা আমার আত্মীয়। বহুবার বিচার করেছি, কাজ হয়নি। রাগের মাথায় কয়েকটা মেরেছি।” তবে তিনি কেন পুলিশে সোপর্দ না করে নিজেই বিচার করলেন, সে বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন বলেন, “ভিডিওটি দেখে আমি শিউরে উঠেছি। এমন নির্যাতন তো কুকুরের সঙ্গেও করা হয় না। অপরাধী হলে আইন অনুযায়ী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা যেত।”
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে এখনও কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার নৃশংসতা এবং আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঘটনার তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।