খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
যশোরের চৌগাছায় আতিয়ার রহমান (৪২) নামের এক বিএনপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২১ জুন) আসর নামাজের পর উপজেলার চৌগাছা, সিংহঝুলি ও ধুলিয়ানী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের পানি প্রবেশের খাল (ক্যানাল) থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ওসমান (৩০) নামের এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নিহত আতিয়ার রহমান যশোরের চৌগাছা উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের লস্কারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা ছবেদ আলী চৌগাছা সদর ইউনিয়ন বিএনপির একজন সক্রিয় নির্বাহী সদস্য এবং নিহত আতিয়ার নিজেও দলীয় কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
পেশাগত জীবনে আতিয়ার রহমান বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ে একজন পাহারাদার বা নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এর পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য উক্ত বাঁওড়ের পাশে থাকা তার নিজস্ব একটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় কৃষি ও সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তিনি নিয়মিত বাঁওড় এলাকায় অবস্থান করে তার দায়িত্ব ও কৃষি কাজ তদারকি করতেন বলে জানা গেছে।
নিহতের ছোট ভাই রাশেদ জানান, আতিয়ার রহমান প্রতিদিন সকালে কাজ শেষে বাড়িতে ফিরলেও রোববার সকালে তিনি যথাসময়ে বাড়িতে যাননি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু দিনভর অনেক সন্ধান করেও তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না।
একপর্যায়ে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আতিয়ারের ভাতিজা হাসান (২৬) বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের ক্যানালের কচুরিপানার নিচে পানির মধ্যে একটি মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে মরদেহটি নিখোঁজ আতিয়ারের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে চৌগাছা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি পানি থেকে উদ্ধার করে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পূর্ব শত্রুতার জেরে সন্দেহজনকভাবে ফতেপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে ওসমানকে (৩০) আটক করেন নিহতের স্বজনরা। এ সময় উত্তেজিত স্বজনরা তাকে মারধর করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ওসমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেন।
চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম নিশ্চিত করেছেন যে, আতিয়ার রহমান বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং তার বাবা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উল্লেখ করে জানান, বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু লোকের সাথে আতিয়ারের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। উক্ত বিরোধের জেরে অতীতেও প্রতিপক্ষরা আতিয়ারসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছিলেন, যা নিয়ে পরবর্তীতে আদালতে নিয়মিত মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। তিনি এই নিকৃষ্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ওসির তথ্য অনুযায়ী, আতিয়ারের গলা ও পেট এবং পিঠের ডান পাশে বগলের নিচে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটার গভীর ক্ষত রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
থানা প্রশাসন জানিয়েছে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় আটককৃত সন্দেহভাজন ওসমানকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।