খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গতকাল রবিবার (১৮ জানুয়ারি) থেকে কেন্দ্রটির সব ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক ইউনিটে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
কেন্দ্রটির সবচেয়ে বড়, ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি আরও আগে, ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকেই উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৫ দিন পর ১৪ জানুয়ারি প্রথম ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হলেও মাত্র চার দিনের মাথায় আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রথম ইউনিটের বয়লারের পুরো টিউব ফেটে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। তিনি বলেন, বয়লারের তাপমাত্রা প্রায় এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকায় তা সম্পূর্ণ ঠান্ডা না হলে মেরামতকাজ শুরু করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, কবে নাগাদ আবার উৎপাদনে ফেরা যাবে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এবারের মেরামত কাজ জটিল হওয়ায় উৎপাদনে ফিরতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগতে পারে। প্রায় ২০ বছর আগে স্থাপিত এই ইউনিটটি পুরনো হওয়ায় প্রতি পাঁচ বছর পরপর বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন হয়।
প্রধান প্রকৌশলী জানান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) অধীনে পরিচালিত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লার ওপর নির্ভর করেই এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন চলে। বর্তমানে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনালের তত্ত্বাবধানে তৃতীয় ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আসার পরই ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী মার্চ মাসে তৃতীয় ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
| ইউনিট | ক্ষমতা (মেগাওয়াট) | বর্তমান অবস্থা | বন্ধের সময় |
|---|---|---|---|
| প্রথম ইউনিট | ১২৫ | বন্ধ | ১৮ জানুয়ারি |
| দ্বিতীয় ইউনিট | ১২৫ | দীর্ঘদিন বন্ধ | নভেম্বর ২০২০ |
| তৃতীয় ইউনিট | ২৭৫ | মেরামতাধীন | ১ নভেম্বর |
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে জাতীয় গ্রিডে চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুম সামনে রেখে দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।