খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম (৩৬)। তার নাম মঙ্গলবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়।
দিদারুল ইসলাম নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। নিহত দিদারুলের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সদর উপজেলায়। তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে এনওয়াইপিডিতে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ট্রাফিক বিভাগ থেকে তাকে নিয়মিত ইউনিটে বদলি করা হয়।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি বেসরকারি ভবনে অফ-ডিউটি (পেইড ডিউটি) নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন দিদারুল। এ সময় ২৭ বছর বয়সী ডেভন তামুরা নামের এক বন্দুকধারী রাইফেল হাতে ওই ভবনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে দিদারুলসহ মোট পাঁচজন প্রাণ হারান। পরে হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করে।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক সংবাদ সম্মেলনে দিদারুল ইসলামকে ‘সাহসী ও দায়িত্বপরায়ণ’ অফিসার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “তিনি সেই কাজটাই করছিলেন যা একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে তার করার কথা। নিজের জীবন বিপন্ন করে অন্যদের রক্ষা করা।”
দিদারুল ইসলামের মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার পরিবার জানিয়েছে, দিদারুলই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বর্তমানে তার বাবা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
নিউ ইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস এবং স্থানীয় কমিউনিটি নেতারাও দিদারুল ইসলামের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তারা বলেন, “তিনি ছিলেন একজন সৎ, ধর্মপ্রাণ ও কমিউনিটিবান্ধব মানুষ। এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হারানো আমাদের জন্য বড় ক্ষতি।”
এদিকে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খন্দকার আব্দুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা নিহত কর্মকর্তার পরিবারের পাশে রয়েছি। প্রয়োজনে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।”
খবরওয়ালা/এসআই