খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫
অনেক দিন পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় অগ্রগতি দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ৮০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.৯৩ শতাংশ বেশি। এটি চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ভারতসহ শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ৭২০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির তুলনায় ১৯.৫ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালে এ আমদানি ছিল ৬০৩ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৩ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে এ বাজারে রপ্তানি ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। তবে ২০২৪ সালে আবার ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের শেষে বড় প্রবৃদ্ধি না হলেও বাংলাদেশ গত বছর ৭৩৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ০.৭৫ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় কানাডা, মেক্সিকো ও চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেন। বিশেষ করে চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা চীনের পরিবর্তে অন্য দেশ থেকে পোশাক সংগ্রহের কথা ভাবছে। ফলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী চীন থেকে তাদের কারখানা সরিয়ে নিতে চাইছেন, যা বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ১৬০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৩.৭২ শতাংশ বেশি। ভিয়েতনাম একই সময়ে ১৪৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯.৯০ শতাংশ বেশি। এ প্রবৃদ্ধির হার বাংলাদেশের তুলনায় কম হলেও এসব দেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সরবরাহকারী।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ প্রবৃদ্ধি দেশটির অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোরই প্রভাব। ভবিষ্যতে এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলে বাংলাদেশ আরও বেশি বাজার দখল করতে সক্ষম হবে।
খবরওয়ালা/এমবি