খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাপক গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানত ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী ও বিতর্কিত অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনিয়াপলিস, যেখানে গত ৭ জানুয়ারির এক অভিবাসন অভিযানের সময় ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক রেনি গুডকে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনাকে ঘিরে ওয়াশিংটন ডিসি, নর্থ ক্যারোলিনা, ওহিও, নিউ মেক্সিকো, এবং টেক্সাসসহ দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে।
মিনিয়াপলিসে বিক্ষোভকারীরা ‘নো আইস, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করেন। ওহিওর ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা, এবং সান্তা ফেতে হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ‘আইস সন্ত্রাস বন্ধ করো’ দাবিতে সমাবেশে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের মতে, প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ লক্ষ লক্ষ অভিবাসীর জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে এবং তা মার্কিন মূল্যবোধের পরিপন্থী।
বিক্ষোভের পেছনে ছিল ইনডিভিবল, ৫০৫০১-এর মতো বামপন্থী সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন, এবং বিভিন্ন তৃণমূল সংগঠন। তারা বিশেষভাবে টেক্সাসের এল পাসোর অভিবাসী ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় সপ্তাহে ওই ক্যাম্পে অন্তত তিনজন আটক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকান নাগরিক আইস এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার মাধ্যমে অভিবাসীদের উপর বলপ্রয়োগের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে। প্রশাসন অবশ্য দাবি করে, তারা অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করছে। তবে নাগরিক অসন্তোষ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিচের টেবিলে বিক্ষোভের কিছু প্রধান তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| শহর/অঞ্চল | বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু | মূল দাবিসূত্র | অংশগ্রহণকারী (আনুমানিক) |
|---|---|---|---|
| মিনিয়াপলিস | রেনি গুড হত্যাকাণ্ড স্থান | আইস দমন, অভিবাসী অধিকারের সুরক্ষা | ৫,০০০+ |
| ওয়াশিংটন ডিসি | রাজপথ ও বিশ্ববিদ্যালয় | প্রশাসনের নীতির নিন্দা | ৩,০০০+ |
| ক্লিভল্যান্ড, ওহিও | বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস | ‘আইস সন্ত্রাস বন্ধ করো’ | ১,২০০+ |
| সান্তা ফে, নিউ মেক্সিকো | হাইস্কুল ও শহর কেন্দ্র | শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, নাগরিক সচেতনতা | ৮০০+ |
| এল পাসো, টেক্সাস | ডিটেনশন ক্যাম্প আশেপাশে | ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রতিবাদ | ১,০০০+ |
মঙ্গলবারের বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল, যেমন সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটলে সন্ধ্যা পর্যন্ত বড় সমাবেশে রূপ নেয়। এই বিক্ষোভ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নিয়ে দেশজুড়ে অসন্তোষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা নির্বাচনী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও প্রভাব ফেলতে পারে।