খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩ মে ২০২৫
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক আইনজীবীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২ মে) রাতে পৌর শহরের আরামবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার (৩ মে) বিকেলে পুলিশ ওই আইনজীবীকে একটি রাজনৈতিক মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃত আইনজীবীর নাম সঞ্জিত কুমার পণ্ডিত। তিনি কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা এবং নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতের একজন প্র্যাকটিসিং আইনজীবী।
কোর্ট পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন শেখ জানান, সঞ্জিত কুমার পণ্ডিতকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার শামসের আদালতে হাজির করলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের একটি সূত্র জানায়, এ সময় তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী মামলার কথা বলে সঞ্জিত কুমারকে বাসা থেকে ডেকে নেন। বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাঁকে মারধর করা হয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। অভিযুক্তরা তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে আখ্যা দেন।
পুলিশ পরে তাঁকে ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর কেন্দুয়া পৌর শহরে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রফিকুল ইসলাম হিলালীর বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। মামলাটি দায়ের করা হয় ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, যেখানে আসামি করা হয় সাবেক সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলসহ ৯৮ জনের নাম এবং আরও ৪০০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে।
সঞ্জিত কুমারের একজন স্বজন দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় যুক্ত এবং কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করা হয়েছে। কারণ, তিনি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী আলী রেজা কাঞ্চনের ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন—এটাই মূলত তাঁর ‘অপরাধ’। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সঞ্জিত কুমারের দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘আইনজীবী সঞ্জিত কুমারকে আমাদের কেউ মারধর করেননি। এসব অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এ বিষয়ে বলেন, ‘আইনজীবী সঞ্জিত কুমারকে আমাদের দলীয় লোকজন মারধর করেননি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট। তাঁকে কে বা কারা মারধর করে পুলিশে দিয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে আমাদের দলীয় নেতা-কর্মী এই কাজ করেননি, এটা জানি।’
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আইনজীবী সঞ্জিত কুমার পণ্ডিতকে জেলা বিএনপির সদস্যসচিবের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘আইনজীবী সঞ্জিত পণ্ডিতকে মারধর করে পুলিশে দেওয়া এবং গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে কেউ আমাকে জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
খবরওয়ালা/আরডি