ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয়ে ওঠে, তবে দেশে প্রত্যাবর্তনকারী শ্রমিকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান, ক্ষতিপূরণ এবং কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিমন্ত্রী নুর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের কর্মস্পৃহা ও উদ্দীপনায় কাজ করছেন। সরকারি দল, বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজ যদি আমরা সবাই সরকারকে সহযোগিতা করি, তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ও সামাজিক ট্র্যাকের ওপর নিয়ে আসা সম্ভব।”
প্রতিমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, “বর্তমান সরকার কারও বিরুদ্ধে নয়, এটি আমাদের সবার সরকার। আমরা সবাই মিলে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
-
স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম,
-
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ,
-
গণঅধিকার পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ হোসেন,
এছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বহু নাগরিক।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষণ অনুযায়ী, প্রবাসী শ্রমিকদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় নিম্নলিখিত ধাপগুলো গ্রহণ করবে:
| ধাপ | বিবরণ | লক্ষ্য |
|---|---|---|
| পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ | ইরানসহ সম্ভাব্য যুদ্ধবিদ্ধ অঞ্চলে প্রবাসীদের অবস্থান ও সংখ্যা নির্ধারণ | ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিক শনাক্ত করা |
| নিরাপদ প্রত্যাবর্তন | বিমানের ব্যবস্থা, স্থলপথে নিরাপদ যাতায়াত | ঝুঁকি হ্রাস ও সুষ্ঠু প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা |
| কর্মসংস্থান ব্যবস্থা | দেশে ফেরার পর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অস্থায়ী বা স্থায়ী চাকরি | অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা |
| কল্যাণ ও ক্ষতিপূরণ | আহত বা বেকার শ্রমিকদের জন্য আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা | সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি |
প্রতিমন্ত্রী নুর বলেন, “এ ধরনের সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রবাসী শ্রমিকদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
এ ধরনের উদ্যোগ দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি আরও দৃঢ় ও স্থিতিশীল করবে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংকটকালে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে।



