মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির তীব্র অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪,২৯২.২৭ মিলিয়ন ডলার বা আনুমানিক ৩৪.২৯ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ২৯,৫৬৯.৮৩ মিলিয়ন ডলার বা ২৯.৫৬ বিলিয়ন ডলার।
আগের সপ্তাহে, অর্থাৎ ৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ৩৪.১০ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী নিট রিজার্ভ ছিল ২৯.৩৮ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধি মূলত আকর বিল পরিশোধের পর অবশিষ্ট বৈদেশিক সম্পদ এবং বিদেশি ঋণ ও মুদ্রা লেনদেনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ফলে এসেছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সাম্প্রতিক তুলনামূলক তথ্য
| তারিখ | গ্রস রিজার্ভ (বিলিয়ন ডলার) | নিট রিজার্ভ (বিলিয়ন ডলার) | উল্লেখযোগ্য কারণ/ট্রানজ্যাকশন |
|---|---|---|---|
| ৮ মার্চ ২০২৬ | ৩৪.১০ | ২৯.৩৮ | আকুর বিল পরিশোধের পূর্বের হিসাব |
| ১১ মার্চ ২০২৬ | ৩৪.২৯ | ২৯.৫৬ | আকুর বিল পরিশোধের পর বৃদ্ধি, বৈদেশিক লেনদেন ও রেমিট্যান্স অবদান |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, যুদ্ধের প্রভাব এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি সত্ত্বেও দেশের বৈদেশিক রিজার্ভে বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।
নিট রিজার্ভের হিসাব আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে করা হয়। এখানে মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় (যেমন, ঋণ পরিশোধের জন্য সংরক্ষিত অর্থ) বাদ দিলে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। এটি দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আমদানি ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈদেশিক রিজার্ভে এই বৃদ্ধি সরকারের মুদ্রানীতি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ফলাফল। এছাড়া, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি বাণিজ্য ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণেও এই রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্প্রতি বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও স্থিতিশীল থাকার একটি উদাহরণ হিসেবে এ তথ্য তুলে ধরেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বৃদ্ধি দেশের মহামূল্যবান নিরাপত্তা কুশন হিসেবে কাজ করবে।
অর্থনীতিবিদরা আরও বলছেন, এই পর্যায়ে রিজার্ভ বাড়ানো দেশের মুদ্রা নীতি মজবুত করা, আমদানি চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাতে সহায়ক। ফলে, দেশের অর্থনীতির ওপর যুদ্ধ বা বৈশ্বিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে এই তথ্য প্রকাশ করে থাকে, যা সরকারের নীতি, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিজার্ভ বৃদ্ধির এই সংখ্যানুপাতিক ধারাবাহিকতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।