খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যারা এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে না, তাদের অবস্থান ওয়াশিংটন সতর্কভাবে মনে রাখবে।
রোববার (১৫ মার্চ) প্রেসিডেন্টের বিশেষ উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে একটি আন্তর্জাতিক টহল ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অন্তত সাতটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই টহল ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সংঘাত বা হামলার ঝুঁকি কমিয়ে আনা।
হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। এটি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “এটি খুব বড় কোনো প্রচেষ্টা নয়, বরং ছোট একটি সহযোগিতামূলক উদ্যোগ। কিন্তু আমরা খুব আগ্রহ নিয়ে দেখব কোন দেশ এই উদ্যোগে অংশ নেয় এবং কে দূরে থাকে।” তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ এই সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে না, তাদের অবস্থান ভবিষ্যতে বিবেচনায় রাখা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মিত্র দেশগুলোর ওপর এক ধরনের কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যেসব দেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে, তাদের দায়িত্বের প্রশ্নটি তিনি স্পষ্টভাবে সামনে আনতে চেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এই দায়িত্ব ভাগাভাগি করা উচিত।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব বোঝাতে নিচের তথ্যগুলো উল্লেখযোগ্য—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থান | পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল |
| আনুমানিক প্রস্থ | প্রায় ৩৩ কিলোমিটার |
| দৈনিক তেল পরিবহন | বিশ্ব তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ |
| প্রধান ব্যবহারকারী অঞ্চল | এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা |
| কৌশলগত গুরুত্ব | বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে এই প্রণালীকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জাহাজে হামলা, ড্রোন আক্রমণ কিংবা সামরিক উত্তেজনার মতো ঘটনা ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র একটি বহুজাতিক টহল ব্যবস্থার মাধ্যমে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার করতে চাইছে। এতে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী অংশ নিলে প্রণালীর ওপর নজরদারি বাড়বে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত মোকাবিলা করা সহজ হবে।
এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আহ্বানের পর কোন কোন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগে যুক্ত হবে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ইউরোপের কিছু দেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের প্রকাশ্য সতর্কবার্তা ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং এতে মিত্র দেশগুলোর ওপর অংশগ্রহণের চাপ আরও বাড়বে। এখন নজর রয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই উদ্যোগে কতটা সক্রিয়ভাবে সাড়া দেয়।