খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রংপুরের মানুষের মাঝে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত তিন বছর ধরে বিভাগের তিনটি আরটি-পিসিআর ল্যাবের মেশিনগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। নেই কিট। ফলে বন্ধ রয়েছে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা। কবে নাগাদ এগুলো সচল করা হবে, তাও নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রংপুরসহ বিভাগের আট জেলায় আবারও করোনার সংক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। কারণ নানা উপসর্গ নিয়ে রোগীরা আসছেন। তবে কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনও উপায় নেই। কারণ এখনও নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা শুরু হয়নি। এমনকি পরীক্ষার কিট এখনও সরবরাহ করেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। আবার ২০২৩ সাল থেকে পিসিআর মেশিনগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এজন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাচ্ছে না। রোগী এসে ফিরে যাচ্ছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগের মানুষের করোনা পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুটিসহ তিনটি পিসিআর মেশিন রয়েছে। এর সবগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। ফলে বিভাগের আট জেলায় করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা বন্ধ আছে। কবে চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘করোনা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পিসিআর মেশিনগুলো সচল করার চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সচল করা সম্ভব হবে। ২০২২ করোনা মহামারি কেটে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন মেশিনগুলো বন্ধ থাকায় অকেজো হয়ে যায়। বিভাগের সব জেলার সিভিল সার্জনকে নিয়ে সভা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। করোনা প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে নগরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা করোনা পরীক্ষার জন্য সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগে বারবার গিয়ে ফিরে আসছেন। তাদের বলা হচ্ছে, করোনা পরীক্ষার কিট না থাকায় নমুনা নেওয়া যাচ্ছে না।
সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, করোনা পরীক্ষার কিট না থাকায় তাদের কাছে আসা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে না। পরীক্ষা করাও যাচ্ছে না। কিট আসলে তারা নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ শুরু করবেন। তবে কবে নাগাদ কিট আসবে, তা বলতে পারেননি কোনও কর্মকর্তা।
সিটি করপোরেশনের মেডিক্যাল অফিসার ডা. পলাশ কুমার রায় বলেন, ‘সারাদেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় বিশেষ করে যাদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা আছে, তাদের সতর্ক অবস্থায় চলাফেরা করতে হবে। হাত ধোয়া ও মাস্ক পরার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’
নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিট সরবরাহ না থাকায় নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করতে পারছি না আমরা। কিট আসলেই নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা শুরু হবে। এজন্য আমাদের পুরো টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কিট আসবে, তা এখনও জানায়নি স্বাস্থ্য বিভাগ।’
নগরের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, ‘জ্বর-সর্দিসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারিনি। মেডিক্যাল অফিসার বলেছেন, কিট সরবরাহ নেই। আসলে করা হবে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ কেন কিট সরবরাহ করছে না, বুঝতে পারছি না। এতে করোনা আবারও সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়বে বলে আতঙ্কে আছি আমরা।’
একই কথা বলেছেন নগরের হনুমানতলার বাসিন্দা আফরোজা বেগম। তিনি বলেন, ‘তিন দিন ধরে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগে গিয়েও করোনা পরীক্ষা করাতে পারিনি। তারা বলছেন, কিট নেই। কবে আসবে তাও বলতে পারছেন না। এতে আমাদের ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে।’
খবরওয়ালা/এমইউ